২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৩-[৬৬] - ইলমের মর্যাদা ও আখিরাতের চিন্তা
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ইলমের মর্যাদা রক্ষা ও আখিরাতের চিন্তা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৩-[৬৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৩-[৬৬]
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ لَوْ أَنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ صَانُوا الْعِلْمَ وَوَضَعُوهُ عِنْدَ أَهْلِهِ لَسَادُوا بِه أَهْلَ زَمَانِهِمْ وَلَكِنَّهُمْ بَذَلُوهُ لِأَهْلِ الدُّنْيَا لِيَنَالُوا بِه مِنْ دُنْيَاهُمْ فَهَانُوا عَلَيْهِمْ سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ ﷺ مَنْ جَعَلَ الْهُمُومَ هَمًّا وَاحِدًا هَمَّ آخِرَتِه كَفَاهُ اللّهُ هَمَّ دُنْيَاهُ وَمَنْ تَشَعَّبَتْ بِهِ الْهُمُومُ فِي أَحْوَالِ الدُّنْيَا لَمْ يُبَالِ اللّهُ فِي أَيِّ أَوْدِيَتِهَا هَلَكَ. رَوَاهُ ابن مَاجَةَ
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আলেমগণ যদি ইলমের হিফাযাত ও মর্যাদা রক্ষা করতেন, উপযুক্ত ও যোগ্য লোকেদের কাছে ইলম সোপর্দ করতেন, তাহলে নিশ্চয়ই তারা তাদের ইলমের কারণে নিজেদের যুগের লোকেদের নেতৃত্ব করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা দুনিয়াদারদের কাছে বিলিয়ে দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের কাছ থেকে দুনিয়ার কিছু স্বার্থ লাভ করতে পারেন। তাই তারা দুনিয়াদারদের কাছে মর্যাদাহীন হয়ে পড়েছেন।আমি তোমাদের নবী (ﷺ) -কে এ কথা বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি নিজের সমস্ত চিন্তাকে এক মাকসুদ, অর্থাৎ শুধুমাত্র আখিরাতের চিন্তায় নিবদ্ধ করে নিবে- আল্লাহ তার দুনিয়ার যাবতীয় মাকসুদ পূরণ করে দিবেন। অপরদিকে যাকে দুনিয়ার নানা দিক ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে, তার জন্য আল্লাহর কোন পরওয়াই নেই, চাই সে কোন জঙ্গলে (দুনিয়ায় যে কোন অবস্থায়) ধ্বংস হোক না কেন।” [১]
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ২৫৭, হাকিম ৪/৩২৭-২৯। কারণ এর সানাদে ‘‘নাহ্শাল ইবনু সা‘ঈদ’’ রয়েছে যাকে ইসহাক ইবনু রহওয়া মিথ্যুক বলেছেন, আবূ হাতিম ও নাসায়ী মাতরুক (পরিত্যাজ্য) বলেছেন। এছাড়াও ইয়াযীদ আর রুক্কাশীও দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৩-[৬৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইলমের হিফাযত ও মর্যাদা রক্ষার কথা খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। বলা হয়েছে, আলিমগণ যদি ইলমকে সঠিকভাবে রক্ষা করতেন এবং উপযুক্ত মানুষের কাছে দিতেন, তবে ইলমের কারণে তাদের মর্যাদা থাকত। কিন্তু যখন ইলম দুনিয়াদারদের কাছে দুনিয়ার স্বার্থ পাওয়ার জন্য দেওয়া হয়, তখন আলিমের সম্মান কমে যায়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে: যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাকে এক চিন্তায়, অর্থাৎ আখিরাতের চিন্তায় রাখে, আল্লাহ তার দুনিয়ার চিন্তার জন্য যথেষ্ট হন। আর যে দুনিয়ার নানা চিন্তায় ছড়িয়ে পড়ে, তার পরিণতি নিয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। এখানে ইলম, আখিরাতের চিন্তা এবং দুনিয়ার লোভ থেকে বাঁচার শিক্ষা একসঙ্গে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইলমের মর্যাদা রক্ষা করা আলিমদের বড় দায়িত্ব।
- উপযুক্ত মানুষের কাছে ইলম দেওয়া উচিত।
- দুনিয়ার স্বার্থে ইলম ব্যবহার করলে মর্যাদা কমে যেতে পারে।
- আখিরাতের চিন্তাকে বড় চিন্তা বানানো মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
