২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৫-[৬৮] - ইলম ভুলে যাওয়া ও অপাত্রে জ্ঞান দেওয়া
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ইলমের বিপদ: ভুলে যাওয়া ও অপাত্রে বলা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৫-[৬৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৫-[৬৮]
وَعَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اۤفَةُ الْعِلْمِ النِّسْيَانُ وَإِضَاعَتُه أَنْ تُحَدِّثَ بِه غَيْرَ أَهْلِه. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ مُرْسَلًا
তাবিঈ আ’মাশ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ইলমের জন্য বিপদ হল (ইলম শিখে) তা ভুলে যাওয়া। অযোগ্য লোক ও অপাত্রে ইলমের কথা বলা বা জ্ঞান দেয়া ইলমকে ধ্বংস করার সমতুল্য। দারিমী মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।” [১]
[১] য‘ঈফ : দারিমী ৬২৪, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ১৩০৩। কারণ আ‘মাশ আনাস (রাঃ) সহ কোন সাহাবী থেকে শ্রবণ করেননি।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৫-[৬৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইলমের দুটি বড় ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। প্রথমটি হলো শেখার পর ভুলে যাওয়া। ইলম শুধু একবার শিখে রেখে দেওয়ার বিষয় নয়; তা মনে রাখা, বুঝে রাখা এবং কাজে লাগানো দরকার। দ্বিতীয় সতর্কতা হলো অযোগ্য লোকের কাছে ইলম বলা। এখানে বোঝানো হয়েছে, ইলমেরও মর্যাদা আছে এবং তা যাকে-তাকে, যেমন-তেমনভাবে বলা ঠিক নয়। যে ব্যক্তি ইলম গ্রহণের যোগ্য নয় বা ইলমকে ভুলভাবে ব্যবহার করতে পারে, তার কাছে জ্ঞান দেওয়ার মধ্যে ক্ষতি থাকতে পারে। বর্ণনায় এটিকে ইলম ধ্বংস করার সমতুল্য বলা হয়েছে। তাই ইলমের হিফাযত, সঠিক মানুষ নির্বাচন এবং শেখা বিষয় মনে রাখার চেষ্টা—এই সবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শেখা ইলম ভুলে যাওয়া ইলমের জন্য ক্ষতির কারণ।
- অযোগ্য মানুষের কাছে ইলম বলা থেকে সতর্ক থাকতে হয়।
- ইলমের মর্যাদা রক্ষা করা জ্ঞানীর দায়িত্ব।
- ইলম শেখার পাশাপাশি তা ধরে রাখার চেষ্টা দরকার।
