১১/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৬৬-[৮] - আবতাহে অবস্থান সুন্নাত নয়
কুরবানির দিনের ভাষণ, আইয়ামে তাশরিকে পাথর মারা ও বিদায়ী তাওয়াফ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
আবতাহে অবস্থান কেন সুন্নাত নয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৬৬-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৬৬-[৮]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: نُزُوْلُ الْأَبْطَحِ لَيْسَ بِسُنَّةٍ إِنَّمَا نَزَلَه رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ لِأَنَّه كَانَ أَسْمَحَ لِخُرُوْجِه إِذَا خَرَجَ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবত্বাহ’-এ নামা বা অবস্থান করা সুন্নাতসম্মত নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্যে ‘আবত্বাহ’ হতে (মাদীনার দিকে) রওয়ানা হওয়াটা সহজ ছিল বিধায় এখানে নেমেছেন বা অবস্থান করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৩১১, ইবনু মাজাহ ৩০৬৭, আহমাদ ২৪১৪৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৬৬-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, আবতাহে নামা বা অবস্থান করা সুন্নাতসম্মত নয়। কারণ রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সেখানে অবস্থান করেছিলেন মূলত তাঁর বের হওয়া সহজ হওয়ার কারণে। অর্থাৎ কোনো স্থানে নবী (صلى الله عليه وسلم) অবস্থান করেছেন মানেই সেটি সব সময় আলাদা ইবাদত বা নির্দিষ্ট সুন্নাত হবে—এমন ধারণা এই হাদিসে সংশোধন করা হয়েছে। এখানে আবতাহে অবস্থান, সফরের সুবিধা এবং আমল বোঝার সতর্কতা আছে। তাই এই হাদিস হজের আমল বুঝতে ভারসাম্য শেখায়। যা সরাসরি ইবাদত হিসেবে এসেছে, তা একভাবে বুঝতে হয়; আর যা সুবিধার কারণে হয়েছে, তা সেই সীমার মধ্যেই রাখতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আবতাহে অবস্থানকে আয়িশা (রাঃ) সুন্নাত বলেননি।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সহজে বের হওয়ার জন্য সেখানে নেমেছিলেন।
- নবীজির প্রতিটি কাজের কারণ বুঝে আমল করা জরুরি।
- হজের আমলে অতিরিক্ত দাবি না করা সতর্কতার অংশ।
