১১/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৬৮-[১০] - হজ শেষে শেষ সাক্ষাৎ বায়তুল্লাহর সাথে
কুরবানির দিনের ভাষণ, আইয়ামে তাশরিকে পাথর মারা ও বিদায়ী তাওয়াফ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
বিদায়ী তাওয়াফ: শেষ সাক্ষাৎ বায়তুল্লাহর সাথে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৬৮-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৬৮-[১০]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ النَّاسُ يَنْصَرِفُوْنَ فِىْ كُلِّ وَجْهٍ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَا يَنْفِرَنَّ أَحَدُكُمْ حَتّٰى يَكُونَ اٰخِرُ عَهْدِه بِالْبَيْتِ إِلَّا أَنَّه خُفِّفَ عَنِ الْحَائِضِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(হজ্জ/হজ সম্পন্ন করে শেষ তাওয়াফ না করেই) লোকজন চারদিক হতে দেশের দিকে ফিরতে শুরু করতো। তাই রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের কেউ যেন বায়তুল্লাহর সাথে (শেষ) সাক্ষাৎ না করে বাড়ীর দিকে রওয়ানা না হয়। তবে ঋতুমতী মহিলাদের (প্রতি শিথিলতা স্বরূপ) এর থেকে বিরত থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৭৫৫, মুসলিম ১৩২৭, ইবনু মাজাহ ৩০৭০, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১৩৫৯৭, আহমাদ ১৯৩৬, দারিমী ১৯৭৪, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ৩০০০, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৯৮৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৯৭৪৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৬৮-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ শেষে বিদায়ী তাওয়াফের মূল নির্দেশনা এসেছে। লোকেরা হজ শেষ করে বিভিন্ন দিকে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করত। তখন রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তোমাদের কেউ যেন বায়তুল্লাহর সাথে শেষ সাক্ষাৎ না করে বাড়ির দিকে রওয়ানা না হয়। অর্থাৎ রওয়ানার আগে শেষ কাজ হিসেবে বায়তুল্লাহর তাওয়াফের বিষয়টি এখানে স্পষ্ট হয়েছে। তবে হাদিসে ঋতুমতী মহিলাদের জন্য ছাড়ের কথাও এসেছে। তাই এই বর্ণনা একদিকে বিদায়ী তাওয়াফের গুরুত্ব বুঝায়, অন্যদিকে বিশেষ অবস্থায় সহজতার দিকও দেখায়। ব্যাখ্যায় এর বাইরে অতিরিক্ত শর্ত বা বিস্তারিত বিধান যোগ না করে হাদিসের সরাসরি বক্তব্যকেই কেন্দ্র রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ শেষে রওয়ানার আগে বায়তুল্লাহর সাথে শেষ সাক্ষাতের নির্দেশ এসেছে।
- বিদায়ী তাওয়াফকে হজের শেষ কাজ হিসেবে বুঝানো হয়েছে।
- ঋতুমতী নারীর জন্য এই বিষয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
- ইবাদতের নির্দেশনার সঙ্গে সহজতার দিকও বিবেচনায় এসেছে।
