১১/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৬৯-[১১] - ঋতুমতী নারীর বিদায়ী তাওয়াফে ছাড়
কুরবানির দিনের ভাষণ, আইয়ামে তাশরিকে পাথর মারা ও বিদায়ী তাওয়াফ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
ঋতুমতী নারীর জন্য বিদায়ী তাওয়াফে সহজতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৬৯-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৬৯-[১১]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: حَاضَتْ صَفِيَّةُ لَيْلَةَ النَّفْرِ فَقَالَتْ: مَا أُرَانِىْ إِلَّا حَابِسَتَكُمْ. قَالَ النَّبِىُّ ﷺ: «عَقْرٰى حَلْقٰى أَطَافَتْ يَوْمَ النَّحْرِ؟» قِيْلَ: نَعَمْ. قَالَ: «فَانْفِرِىْ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মাদীনাহ্ হতে রওয়ানা হবার রাতেই বিবি সফিয়্যাহ্ ঋতুমতী হয়ে পড়লেন। তিনি (সফিয়্যাহ্) বললেন, আমার মনে হয় আমি আপনাদেরকে আটকে দিলাম। (এ কথা শুনে) নবী (ﷺ) বললেন, ধ্বংস হোক, নিপাত যাক। সে কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ (ইফাযাহ্) করেনি? বলা হলো, হ্যাঁ, করেছে। তিনি (ﷺ) বললেন, তবে রওয়ানা হও। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৭৭১, মুসলিম ১২১১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৬৯-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। রওয়ানার রাতে তিনি ঋতুমতী হয়ে যান এবং মনে করেন, তাঁর কারণে সবাই আটকে যাবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তখন জানতে চান, তিনি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছেন কি না। বলা হয়, হ্যাঁ, তিনি তাওয়াফ করেছেন। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাহলে রওয়ানা হও। এই বর্ণনা ২৬৬৮ নম্বর হাদিসের বক্তব্যকে আরও পরিষ্কার করে। সেখানে ঋতুমতী নারীর জন্য ছাড়ের কথা এসেছে; এখানে দেখা যায়, সফিয়্যাহ (রাঃ) তাওয়াফে ইফাযাহ করে নেওয়ায় তাঁকে আর আটকে রাখা হয়নি। তাই হাদিসটি বিদায়ী তাওয়াফ, তাওয়াফে ইফাযাহ এবং ঋতুমতী নারীর ক্ষেত্রে সহজতার বিষয়টি সুন্দরভাবে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুমতী হওয়ার কারণে সফিয়্যাহ (রাঃ) নিজেকে কাফেলার জন্য বাধা মনে করেছিলেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) আগে তাওয়াফে ইফাযাহ হয়েছে কি না তা জানতে চেয়েছেন।
- তাওয়াফে ইফাযাহ সম্পন্ন হলে রওয়ানা হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- হজের আমলে বিশেষ অবস্থায় সহজতার দিক দেখা যায়।
