১১/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৭০-[১২] - বিদায় হজের ভাষণে জীবন-সম্পদের মর্যাদা
কুরবানির দিনের ভাষণ, আইয়ামে তাশরিকে পাথর মারা ও বিদায়ী তাওয়াফ করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বিদায় হজের ভাষণে জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৭০-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৭০-[১২]
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْأَحْوَصِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ فِىْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ: «أَىُّ يَوْمٍ هٰذَا؟» قَالُوا: يَوْمُ النَّحْر الْأَكْبَرِ. قَالَ: «فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هٰذَا فِىْ بَلَدِكُمْ هٰذَا أَلا لَا يَجْنِىْ جانٍ عَلٰى نَفْسِه وَلَا يَجْنِىْ جَانٍ عَلٰى وَلَدِه وَلَا مَوْلُودٌ عَلٰى وَالِدِه أَلَا وَإِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيسَ أَنْ يُعْبَدَ فِىْ بَلَدِكُمْ هٰذَا أَبَدًا وَلَكِنْ سَتَكُوْنُ لَه طَاعَةٌ فِيْمَا تَحْتَقِرُوْنَ مِنْ أَعْمَالِكُمْ فَسَيَرْضٰى بِه». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالتِّرْمِذِىُّ وَصَحَّحَه
আমর ইবনুল আহ্ওয়াস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বলতে শুনেছি, বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে লোকেরা! এটা কোন দিন? (সমস্বরে) লোকেরা বললো, এটা হজে আকবারের (বড় হজের) দিন। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, (মনে রাখবে) তোমাদের জীবন, সম্পদ, ইজ্জত পরস্পরের মধ্যে যেমন হারাম বা পবিত্র। তেমনি আজকের এ দিন এ শহরে হারাম বা পবিত্র।সাবধান! কোন অপরাধকারী যেন তার জীবনের ওপর যুলুম না করে। সাবধান! কোন অপরাধী যেন নিজের সন্তানের ওপর যুলুম না করে। কোন সন্তান যেন তার পিতার ওপর যুলুম না করে। সাবধান! শয়তান চিরদিনের জন্যে নিরাশ হয়ে গেছে এ শহরে তার কোন পূজা হবে (না এ প্রসঙ্গে)। কিন্তু তোমাদের যে সব কাজের মধ্য দিয়ে তার অনুসারী হবে, অথচ সেসব কাজ তোমরা তুচ্ছ মনে করবে। আর এতেই সে খুশী হবে। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী; তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)[১]
[১] সহীহ : তিরমিযী ২১৫৯, ইবনু মাজাহ ৩০৫৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫৮৯৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৮৮০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৭০-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিদায় হজের ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) লোকদের জিজ্ঞেস করেন, এটি কোন দিন? তারা বলে, এটি হজে আকবারের দিন। এরপর তিনি বলেন, তোমাদের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত পরস্পরের মধ্যে পবিত্র, যেমন এই দিন ও এই শহর পবিত্র। তারপর তিনি সতর্ক করেন, কোনো অপরাধী যেন নিজের ওপর, নিজের সন্তানের ওপর, কিংবা সন্তান পিতার ওপর যুলুম না করে। হাদিসে শয়তানের বিষয়েও সতর্কতা আছে। সে এই শহরে পূজিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে, কিন্তু মানুষ যে ছোট মনে করা কাজের মাধ্যমে তার অনুসরণ করবে, তাতেই সে খুশি হবে। তাই এই হাদিস জীবন, সম্পদ, ইজ্জত, যুলুম থেকে বেঁচে থাকা এবং ছোট গুনাহকে হালকা না ভাবার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতকে পবিত্র বলা হয়েছে।
- নিজের ওপর, সন্তান বা পিতার ওপর যুলুম থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- ছোট মনে করা কাজের মাধ্যমেও শয়তানের অনুসরণ হতে পারে।
- বিদায় হজের ভাষণে সামাজিক নিরাপত্তার বড় শিক্ষা আছে।
