১১/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৭৬-[১৮] - আইয়ামে তাশরীকে রমি ও দোয়ার পদ্ধতি
কুরবানির দিনের ভাষণ, আইয়ামে তাশরিকে পাথর মারা ও বিদায়ী তাওয়াফ করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আইয়ামে তাশরীকে রমি, তাকবীর ও দোয়ার পদ্ধতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৭৬-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৭৬-[১৮]
وَعَنْهَا قَالَتْ: أَفَاضَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ مِنْ اٰخِرِ يَوْمِه حِيْنَ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ رَجَعَ إِلٰى مِنًى فَمَكَثَ بِهَا لَيَالِىَ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ يَرْمِى الْجَمْرَةَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ كُلَّ جَمْرَةٍ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَيَقِفُ عِنْدَ الْأُوْلٰى وَالثَّانِيَةِ فَيُطِيلُ الْقِيَامَ وَيَتَضَرَّعُ وَيَرْمِى الثَّالِثَةَ فَلَا يَقِفُ عِنْدَهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায়ে পর দিনের শেষ বেলায় তাওয়াফে ইফাযাহ্ সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি (ﷺ) আবার মিনায় ফিরে এলেন এবং সেখানেই আইয়্যামে তাশরীক্বের দিনগুলো অবস্থান করলেন। এ দিনগুলোতে তিনি (ﷺ) সূর্য ঢলে পড়ার পর জামারায় সাতটি করে পাথর মারতেন। প্রত্যেক পাথর মারার সাথে সাথে ‘আল্লা-হু আকবার’ বলতেন। আর প্রথম ও দ্বিতীয় জামারার নিকট দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতেন ও আল্লাহর কাছে (অনুনয়-বিনয় করে) প্রার্থনা করতেন। কিন্তু তৃতীয় জামারায় (পূর্বের ন্যায় পাথর মারার পর) অপেক্ষা করতেন না। (আবূ দাঊদ)[১]
[১] সহীহ : তবে (حين صلى الظهر) অংশটুকু ব্যতীত। আবূ দাঊদ ১৯৭৩, আহমাদ ২৪৯২, ইরওয়া ১০৮২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৭৬-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তাওয়াফে ইফাযাহ ও মিনায় অবস্থানের ধারাবাহিকতা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যুহরের সালাতের পর দিনের শেষ ভাগে তাওয়াফে ইফাযাহ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি মিনায় ফিরে আসেন এবং আইয়ামে তাশরীকের রাতগুলো সেখানে অবস্থান করেন। এই দিনগুলোতে তিনি সূর্য হেলে পড়ার পর প্রতিটি জামারায় সাতটি করে পাথর মারতেন এবং প্রত্যেক পাথরের সঙ্গে তাকবীর বলতেন। প্রথম ও দ্বিতীয় জামারার কাছে তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়াতেন এবং আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করতেন। কিন্তু তৃতীয় জামারায় পাথর মারার পর তিনি দাঁড়াতেন না। এই হাদিস রমি, তাকবীর, দোয়া এবং মিনায় অবস্থানের নববী পদ্ধতি পরিষ্কার করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওয়াফে ইফাযাহ শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) মিনায় ফিরে এসেছেন।
- আইয়ামে তাশরীকে প্রতিটি জামারায় সাতটি করে পাথর মারার কথা এসেছে।
- প্রত্যেক পাথরের সঙ্গে তাকবীর বলা হয়েছে।
- প্রথম ও দ্বিতীয় জামারায় দোয়া করা হয়েছে, তৃতীয়টিতে দাঁড়ানো হয়নি।
