১১/১১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৮৯-[১২] - নারীদের ইহরামের পোশাক
ইহরাম অবস্থায় যা থেকে বেঁচে থাকতে হবে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
নারীদের ইহরামের পোশাকের বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৬৮৯-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৬৮৯-[১২]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّه سَمِعَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَنْهَى النِّسَاءَ فِى اِحْرَامِهِنَّ عَنِ الْقُفَّازَيْنِ وَالنِّقَابِ وَمَا مَسَّ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ مِنَ الثِّيَابِ وَلْتَلْبَسْ بَعْدَ ذٰلِكَ مَا أحَبَّتْ مِنْ أَلْوَانِ الثِّيَابِ مُعَصْفَرٍ أَوْخَزِّ أَوْ حُلِىٍّ أَوْ سَرَاوِيْلَ أَوْ قَمِيْصٍ أَوْ خُفٍّ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নারীদেরকে তাদের ইহরামে হাত মোজা ও বোরকা এবং ওয়ারস্ (জা‘ফরানে রঞ্জিত কাপড়) পরতে নিষেধ করতে শুনেছেন। তারপর (ইহরামের পর) তারা যে কোন কাপড় পছন্দ করে পরতে পারবে- তা কুসুমী বা রেশমী হোক অথবা যে কোন ধরনের অলংকার অথবা পাজামা বা পিরান বা মোজা পরতে পারে। (আবূ দাঊদ)[১]
[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ১৮২৭, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১৪২৩৬, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৭৮৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৯০৪৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৬৮৯-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর রাঃ থেকে নারীদের ইহরামের পোশাক সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে ইহরামে হাত মোজা, নিকাব বা বোরকা এবং ওয়ারস বা জাফরানে রঞ্জিত কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। এরপর বলা হয়েছে, এর বাইরে তারা পছন্দের যে কোনো কাপড় পরতে পারবে; কুসুমী, রেশমী, অলংকার, পাজামা, পিরান বা মোজা—এসবের উল্লেখ এসেছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো নারীদের ইহরামের পোশাক একদিকে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস থেকে বিরত রাখে, অন্যদিকে সাধারণ পোশাকে সহজতা রাখে। তবে এখানে শালীনতা, হিজাব বা পর্দার আলাদা দীর্ঘ আলোচনা নেই; শুধু বর্ণনায় বলা পোশাকগুলোর কথা আছে। তাই ব্যাখ্যাও সেই সীমায় থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইহরামে নারীদের জন্য হাত মোজা ও নিকাব নিষেধের কথা এসেছে।
- ওয়ারস ও জাফরানযুক্ত কাপড় থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ আছে।
- নির্দিষ্ট নিষেধের বাইরে বিভিন্ন পোশাকের সুযোগ বর্ণনায় এসেছে।
- নারীর ইহরামের পোশাক নিয়ে টেক্সটের সীমা মানা জরুরি।
