২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৫-[৭৮] - দেখানোর আমল ও জুব্বুল হুযুন
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
রিয়ার জন্য কুরআন পড়া ও আমলের ভয়াবহ সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৫-[৭৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৫-[৭৮]
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَعَوَّذُوْا بِالله مِنْ جُبِّ الْحُزْنِ؟ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ الله وَمَا جُبُّ الْحُزْنِ قَالَ وَادٍ فِيْ جَهَنَّمَ يَتَعَوَّذُ مِنْهُ جَهَنَّمُ كُلَّ يَوْمٍ اَرْبَعَ مِائَةِ مَرَّةٍ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ الله وَمَنْ يَّدْخُلُهَا قَالَ الْقُرَّاءُ الْمُرَاؤُنَ بِاَعْمَالِهِمْ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَكَذَا اِبْنُ مَاجَةَ وَزَادَ فِيْهِ وَاِنَّ مِنْ اَبْغَضِ الْقُرَّاءِ اِلَى الله تَعَالى الَّذِيْنَ يَزُوْرُوْنَ الاُمَرَاءَ قَالَ الْمُحَارِبِّى يَعْنِىْ الْجَوْرَةَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা ‘জুব্বুল হুযুন’ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ‘জুব্বুল হুযুন’ কি? তিনি বললেন, এটা হল জাহান্নামের মধ্যে একটি গর্ত। এ গর্ত হতে বাচার জন্য জাহান্নামও দৈনিক চারশ বার আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! এতে (এ গর্তে) কারা যাবে? তিনি (ﷺ) বললেন, যারা দেখানোর উদ্দেশ্যে আমাল ও কোরআন অধ্যয়ন করে থাকে।তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ মুকাদ্দামাহ, ইবনু মাজার অপর এক বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথাও বলেছেন, কোরআন অধ্যয়নকারী (আলিম)-গণের মধ্যে তারাই আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা ঘৃণিত, যারা আমীর-ওমরাহদের সাথে বেশী বেশী সাক্ষাৎ বা মেলামেশা করে। [১]
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৩৮৩, ইবনু মাজাহ্ ২৫৬, য‘ঈফুত্ তারগীব ১৬। কারণ এর সানাদে ‘আম্মার ইবনু সায়িফ আয্ যববী রয়েছে যিনি আবূ মু‘আয (রাঃ) আল বাসারী থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল। আর আবূ মু‘আয (রাঃ) যার নাম সুলায়মান ইবনু আরক্বাম সে একজন মাতরুক বা পরিত্যক্ত রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৫-[৭৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ‘জুব্বুল হুযুন’ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি জাহান্নামের একটি গর্ত, যা থেকে জাহান্নামও প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। এরপর জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এতে তারা যাবে যারা দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল ও কুরআন অধ্যয়ন করে। এখানে ‘রিয়া’ বা লোক দেখানো আমলের কঠিন সতর্কতা এসেছে। কুরআন পড়া ও আমল করা খুব বড় কাজ, কিন্তু যদি উদ্দেশ্য মানুষকে দেখানো হয়, তবে তা ভয়ংকর ক্ষতির কারণ হতে পারে। বর্ণনার আরেক অংশে কুরআন অধ্যয়নকারী আলিমদের মধ্যে যারা আমীর-উমরাহদের কাছে বেশি যায়, তাদের বিষয়ে সতর্কতা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমল ও কুরআন অধ্যয়ন আল্লাহর জন্য হওয়া উচিত।
- লোক দেখানো উদ্দেশ্য আমলকে ক্ষতির দিকে নিতে পারে।
- রিয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া দরকার।
- দুনিয়াবি স্বার্থে ক্ষমতাবানদের কাছে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়।
