২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬-[৭৯] - নামমাত্র ইসলাম ও হিদায়াতহীন ইলম
ইলম (বিদ্যা) - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নামমাত্র ইসলাম ও হিদায়াতহীন আলিমদের ফিতনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৬-[৭৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৬-[৭৯]
وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُوْشِكُ اَنْ يَّاْتِىَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَّا يَبْقى مِنَ الْإِسْلَامِ اِلَّا اسْمُه وَلَا يَبْقى مِنَ الْقُرْاۤنِ اِلَّا رَسْمُه مَسَاجِدُهُمْ عَامِرَةٌ وَّهِىَ خَرَابٌ مِّنَ الْهُدى عُلَمَاءُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ اَدِيْمِ السَّمَاءِ مِنْ عِنْدِهِمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ وَفِيْهِمْ تَعُوْدُ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِيْ شُعَبِ الْاِيْمَانِ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শীঘ্রই মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে, যখন শুধু নাম ব্যতীত ইসলামের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সেদিন কোরআনের অক্ষরই শুধু অবশিষ্ট থাকবে। তাদের মসজিদ গুলোতো বাহ্যিকভাবে আবাদ হতে থাকবে, কিন্তু হিদায়াতশূন্য থাকবে। তাদের আলিমগণ হবে আকাশের নিচে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক, তাদের নিকট থেকেই (দ্বীনের) ফিতনাহ-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। অতঃপর এ ফিতনাহ তাদের দিকেই ফিরে আসবে। [১]
[১] খুবই দুর্বল : শু‘আবুল ঈমান ১৯০৮, য‘ঈফাহ্ ১৯৩৬। কারণ এর সানাদে বিশর ইবনু ওয়ালীদ আল ক্বযী নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে যার বার্ধক্যজনিত বুদ্ধিভ্রষ্টতা ছিল।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬-[৭৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন এক সময়ের কথা বলা হয়েছে, যখন মানুষের মাঝে ইসলামের শুধু নাম থাকবে এবং কুরআনের শুধু অক্ষর থাকবে। মসজিদগুলো বাহ্যিকভাবে আবাদ থাকবে, কিন্তু হিদায়াত থেকে খালি থাকবে। আরও বলা হয়েছে, তাদের আলিমগণ আকাশের নিচে নিকৃষ্ট লোক হবে; তাদের কাছ থেকেই ফিতনা বের হবে এবং সেই ফিতনা তাদের দিকেই ফিরে আসবে। এখানে বাহ্যিক ধর্মীয় চেহারা ও ভেতরের হিদায়াতের পার্থক্য খুব পরিষ্কার। শুধু মসজিদ, নাম, অক্ষর বা পরিচয় থাকলেই যথেষ্ট নয়; কুরআনের হিদায়াত, আমল ও আল্লাহভীতি থাকা দরকার। আলিমদের দায়িত্বও বড়, কারণ তাদের ভুল থেকে সমাজে ফিতনা ছড়াতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামের শুধু নাম থাকাই যথেষ্ট নয়; হিদায়াত দরকার।
- কুরআনের অক্ষর পড়ার সঙ্গে তার শিক্ষা মানা জরুরি।
- বাহ্যিকভাবে মসজিদ আবাদ হলেও ভেতরের হিদায়াত হারানো বড় ক্ষতি।
- আলিমদের ভুল থেকে সমাজে ফিতনা ছড়াতে পারে।
