১২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬৯-[১১] - শিঙ্গা লাগানোর বিনিময়
উপার্জন করা এবং হালাল রুজি অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক নিয়ে নবীজির আচরণ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৬৯-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৬৯-[১১]
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: حَجَمَ أَبُو طَيْبَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُمِرَ لَهُ بِصَاعٍ مِنْ تَمْرٍ وَأَمَرَ أَهْلَهُ أَنْ يُخَفِّفُوا عَنْهُ مِنْ خراجه
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ ত্বয়বাহ্ নামের এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন (রক্তমোক্ষণ করেছিলেন)। তিনি (ﷺ) (এর বিনিময়ে) তাকে এক সা' খুরমা দেবার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং তার মালিকপক্ষকে আদেশ করলেন, তার ওপর ধার্যকৃত উপার্জনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে।
[১] এক সা‘ : প্রায় আড়াই কেজি বা সামান্য কম। আর লুগাহ্ ৪৮৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে, সাড়ে তিন সেরের সমান।[২] সহীহ : বুখারী ২১০২, মুসলিম ১৫, আবূ দাঊদ ৩৪২৪, তিরমিযী ১২৭৮, আহমাদ ১২৮৮৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৬৯-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, আবূ ত্বয়বাহ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم তার জন্য এক সা' খুরমা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তার মালিকদের বলেন, তার ওপর ধার্যকৃত উপার্জনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে। এখানে দুটি দিক স্পষ্ট। প্রথমত, কাজের বিনিময়ে কিছু দেওয়ার বিষয়টি বর্ণনায় এসেছে। দ্বিতীয়ত, একজন শ্রমজীবী মানুষের ওপর চাপ কমানোর দিকটিও এসেছে। শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক নিয়ে অন্য হাদিসে সতর্ক ভাষা থাকলেও, এই বর্ণনায় আবূ ত্বয়বাহকে দেওয়া এবং তার বোঝা কমানোর বিষয় আছে। তাই হাদিসটি উপার্জন, শ্রমের মূল্য এবং দুর্বল মানুষের প্রতি দয়া—এই তিনটি শিক্ষা সামনে আনে। মুসলিম সমাজে কাজের মানুষকে অবহেলা না করে ন্যায্য আচরণ করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাজের মানুষের শ্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- যার ওপর উপার্জনের চাপ বেশি, তার বোঝা কমানো ভালো আচরণ।
- শিঙ্গা লাগানোর বিনিময় বিষয়ে হাদিসে নির্দিষ্ট ঘটনা এসেছে।
- শ্রমজীবী মানুষের প্রতি দয়া ও ন্যায় আচরণ দরকার।
