১২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৮২-[২৪] - কুরআন লেখার পারিশ্রমিকের শিক্ষা
উপার্জন করা এবং হালাল রুজি অবলম্বনের উপায় সন্ধান করা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নিজ হাতে কাজ করে মজুরি নেওয়ার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৮২-[২৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৮২-[২৪]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ أُجْرَةِ كِتَابَةِ الْمُصْحَفِ فَقَالَ: لَا بَأْسَ إِنَّمَا هُمْ مُصَوِّرُونَ وَإِنَّهُمْ إِنَّمَا يَأْكُلُونَ من عمل أَيْديهم. رَوَاهُ رزين
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁকে একবার কোরআন মাজীদ লেখার মজুরি বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, জবাবে তিনি বললেন, তাতে কোনো দোষ নেই। কারণ তারা তো (কোরআনের) হরফসমূহের নকশা অঙ্কন করে নিজ হাতের উপার্জন খেয়ে থাকে।
[১] শায়খ যুবায়র ‘আলী যাঈ (রহঃ) বলেন, আমি হাদীসটি রযীনে পাইনি। বরং এটি আবূ দাঊদ ‘আল মাসাহিফ’ নামক গ্রন্থের ১৪৭ ও ১৯৯ নং পৃষ্ঠায় দুটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৮২-[২৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে কুরআন মাজীদ লেখার মজুরি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, এতে কোনো দোষ নেই। কারণ লেখকরা হরফের নকশা নিজের হাতে আঁকেন এবং নিজের হাতের কাজের বিনিময়ে খাবার গ্রহণ করেন। এই হাদিসে হালাল মজুরি ও নিজ হাতে কাজ করার মূল্য স্পষ্টভাবে আসে। কাজটি সম্মানজনক হলে এবং আয়টি সরাসরি শ্রমের বিনিময়ে হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে—এটাই এখানে বোঝানো হয়েছে। কুরআন লেখা এখানে ব্যবসা নয়, বরং লেখা ও পরিশ্রমের কাজ হিসেবে এসেছে। তাই এই বর্ণনা হালাল উপার্জন, লেখার পারিশ্রমিক এবং শ্রমের মর্যাদা নিয়ে সহজ একটি শিক্ষা দেয়। এতে বোঝা যায়, জ্ঞানভিত্তিক কাজও যখন বাস্তব শ্রমের মাধ্যমে হয়, তখন মজুরির বিষয়টি বিবেচ্য হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজ হাতে করা কাজের মজুরি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
- শ্রমের বিনিময়ে আয় করাকে সম্মানের চোখে দেখা হয়েছে।
- কুরআন লেখার পারিশ্রমিক বিষয়ে বর্ণনাটি সহজ অনুমতির দিক দেখায়।
- আয়ের ক্ষেত্রে কাজের ধরন ও উদ্দেশ্য বুঝে চলা দরকার।
