১২/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৯২-[৩] - সহানুভূতির কারণে আল্লাহর ক্ষমা
ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনে সহনশীলতা - প্রথম অনুচ্ছেদ
সহানুভূতি দেখালে আল্লাহর ক্ষমার আশা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৭৯২-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৭৯২-[৩]
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ نَحْوَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَأَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ «فَقَالَ اللَّهُ أَنَا أَحَق بذا مِنْك تجاوزوا عَن عَبدِي»
আর মুসলিম-এর এক বর্ণনায় ‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) ও আবূ মাস'উদ (রাঃ) হতে এ ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে। এতে উল্লেখ হয়েছে, ওই লোকটির কথার পর আল্লাহ তা'আলা বললেন, নিশ্চয় সহানুভূতি প্রদর্শনে আমি তোমার অপেক্ষা অধিক অগ্রসর। [এ কথা বলে আল্লাহ মালায়িকাহ্-কে (ফেরেশতাগণকে) আদেশ করলেন] আমার এ বান্দার প্রতি তোমরা ক্ষমা ও সহানুভূতি প্রকাশ করো।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৫৬০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৭৯২-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাটি আগের ঘটনার আরেক রূপ। এখানে ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির ও আবূ মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ওই লোকের সহানুভূতির কথা শুনে আল্লাহ বলেন, “আমি তোমার চেয়ে এতে বেশি হকদার।” এরপর ফেরেশতাদের বলা হয়, আমার বান্দাকে ছাড় দাও। এই হাদিসে লেনদেনে দয়া ও ক্ষমার মূল্য বোঝানো হয়েছে। মানুষ যখন অন্যের কষ্ট দেখে সহজ করে, সময় দেয় বা ক্ষমা করে, তখন সে আল্লাহর দয়ার দরজার দিকে এগোয়। তবে এটি কোনো অযথা দাবির অনুমতি নয়; বরং পাওনা আদায়ের সময় নরম মন, সহানুভূতি এবং মানুষের অবস্থার প্রতি দৃষ্টি রাখার শিক্ষা। তাই ক্ষমা ও ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তে অহংকার নয়, আল্লাহর রহমতের আশা রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের প্রতি দয়া আল্লাহর ক্ষমার আশা বাড়ায়।
- লেনদেনে সহানুভূতি বড় নেক কাজ হতে পারে।
- গরিবের কষ্ট বুঝে ছাড় দেওয়া প্রশংসিত।
- পাওনা আদায়ে শুধু অধিকার নয়, দয়ার দিকও দেখা দরকার।
