৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৬-[৮৯] - ওজু ও খুশূসহ সালাতের কাফফারা
পাক-পবিত্রতা - প্রথম অনুচ্ছেদ
উত্তম ওজু ও খুশূসহ সালাত গুনাহের কাফফারা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৮৬-[৮৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৮৬-[৮৯]
وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُه صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوْءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا اِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذلِكَ الدَّهْرَ كُلَّه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মুসলিম ফরজ সালাতের সময় হলে উত্তমভাবে ওজু করে, বিনয় ও ভয় সহকারে রুকূ’ করে (সালাত আদায় করে তার এ সালাত), তা তার সালাতের পূর্বের গুনাহর কাফ্ফারাহ্ (প্রায়শ্চিত্ত) হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে কাবীরাহ্ গুনাহ করে থাকে। আর এভাবে সর্বদাই চলতে থাকবে। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২২৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৮৬-[৮৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফরজ সালাতের সময় একজন মুসলিমের প্রস্তুতি ও সালাতের ভেতরের অবস্থা নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সালাতের সময় হলে সে উত্তমভাবে ওজু করে, সালাতে বিনয় রাখে এবং রুকূ ঠিকভাবে করে—তাহলে সেই সালাত আগের গুনাহের কাফফারা হয়, যতক্ষণ সে কাবীরাহ গুনাহ না করে। এখানে শুধু ওজু নয়, সালাতের খুশূ ও রুকূর কথাও এসেছে। অর্থাৎ সালাতের বাহ্যিক নিয়ম এবং অন্তরের মনোযোগ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসের শেষ অংশে বলা হয়েছে, এভাবে সবসময় চলতে থাকবে। তাই ফরজ সালাতকে হালকা করে দেখা নয়; বরং প্রতিটি সালাতকে নতুনভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ সালাতের আগে উত্তমভাবে ওজু করা দরকার।
- সালাতে বিনয় ও রুকূর সঠিকতা গুরুত্বপূর্ণ।
- কাবীরাহ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
- প্রতিটি ফরজ সালাত গুনাহ মাফের সুযোগ হতে পারে।
