১২/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯৫৩-[১৬] - ক্ষুধার্ত অবস্থায় দুধ পান করার আদব
কারো সম্পদে অন্যায় হস্তক্ষেপ, ঋণ ও ক্ষতিপূরণ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ক্ষুধার্ত হলে দুধ পান করার অনুমতির আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৯৫৩-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৯৫৩-[১৬]
وَعَن الْحسن عَن سَمُرَة أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ عَلَى مَاشِيَةٍ فَإِنْ كَانَ فِيهَا صَاحِبُهَا فَلْيَسْتَأْذِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهَا فَلْيُصَوِّتْ ثَلَاثًا فَإِنْ أَجَابَهُ أَحَدٌ فَلْيَسْتَأْذِنْهُ وَإِنْ لَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ فَلْيَحْتَلِبْ وَلْيَشْرَبْ وَلَا يَحْمِلْ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
হাসান বাস্ত্রী (রহঃ) সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : কোনো ব্যক্তি যখন কোনো পশুপালের কাছে (ক্ষুধার্ত অবস্থায়) পৌঁছে; তখন সেখানে যদি তাদের মালিক থাকে, তবে সে যেন তার নিকট হতে অনুমতি নেয়। আর যদি সেখানে মালিক না থাকে, সেক্ষেত্রে সে যেন তিনবার শব্দ করে। যদি কেউ তাতে সাড়া দেয়, তবে তার নিকট হতে যেন অনুমতি নেয়। আর যদি কেউ সাড়া না দেয়, সেক্ষেত্রে সে দুধ দোহন করে পান করবে, আর সাথে করে যেন নিয়ে না যায়।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৬১৯, তিরমিযী ১২৯৬, ইরওয়া ২৫২১, সহীহ আল জামি‘ ২৬৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৯৫৩-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি বিশেষ অবস্থার কথা এসেছে। কোনো ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় পশুপালের কাছে পৌঁছালে, যদি মালিক থাকে, তার অনুমতি নিতে হবে। মালিক না থাকলে তিনবার শব্দ করে ডাকতে বলা হয়েছে। কেউ সাড়া দিলে তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর কেউ সাড়া না দিলে দুধ দোহন করে পান করা যাবে, কিন্তু সাথে করে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এখানে অনুমতি, প্রয়োজন এবং সীমা—তিনটি বিষয় পরিষ্কার। ক্ষুধা থাকলেও অন্যের মাল ইচ্ছামতো নেওয়া যায় না। আবার প্রয়োজনে সামান্য পান করার অনুমতি এসেছে, কিন্তু তা মজুত করা বা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নয়। এই হাদিস অন্যের সম্পদ ব্যবহারে ভদ্রতা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের পশু থেকে দুধ নিতে হলে আগে অনুমতি চাইতে হবে।
- মালিক না থাকলে ডাক দিয়ে সাড়া খোঁজা উচিত।
- প্রয়োজনে পান করা গেলেও সাথে নিয়ে যাওয়া নিষেধ।
