৩/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০৫-[৬] - উটের গোশত খেলে ওজু
যে কারণে ওজু করা ওয়াজিব হয় - প্রথম অনুচ্ছেদ
اَلْوُضُوْءُ(واوবর্ণে যম্মাযোগে) শব্দের অর্থ উযূ করা আরواوবর্ণে ফাতাহ যোগেاَلْوَضُوْءُ -এর অর্থ উযূর পানি। অত্র অধ্যায়ে ঐ সমস্ত বিষয় বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বিনষ্ট করে ফেলে এবং অন্য একটি উযূ (নতুন উযূ) আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।
উটের গোশত খেলে ওজু করতে হবে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩০৫-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩০৫-[৬]
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ قَالَ إِنْ شِئْتَ فَتَوَضَّأْ وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَتَوَضَّأْ قَالَ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ قَالَ نَعَمْ فَتَوَضَّأْ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ قَالَ أُصَلِّيْ فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ قَالَ نَعَمْ قَالَ أُصَلِّيْ فِي مَبَارِكِ الْإِبِلِ قَالَ لَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল, আমরা কি বকরীর গোশ্ত খেলে ওযু করব? তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি চাইলে করতে পার, না চাইলে না কর। সে আবার জিজ্ঞেস করল, উটের গোশ্ত খাবার পর কি ওযু করব? রাসূল (ﷺ) বললেন, হাঁ, উটের গোশ্ত খাবার পর ওযু কর। অতঃপর সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করল, বকরী থাকার স্থানে কি সালাত আদায় করতে পারি? রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, পারো। তারপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, উটের বাথানে কি সালাত আদায় করব? তিনি (ﷺ) বললেন, না। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৩৬০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩০৫-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। প্রথমে তিনি বকরীর গোশত খেলে ওজু করতে হবে কি না জিজ্ঞেস করেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, চাইলে করতে পার, না চাইলে না কর। এরপর উটের গোশত খাওয়ার পর ওজু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, উটের গোশত খাওয়ার পর ওজু কর। তারপর বকরী থাকার স্থানে সালাতের অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু উটের বাথানে সালাত আদায়ের বিষয়ে তিনি না বলেন। তাই এই হাদিসে বকরী ও উটের গোশতের হুকুম আলাদা করে এসেছে। একই সঙ্গে সালাতের জায়গা সম্পর্কেও দুটি আলাদা উত্তর পাওয়া যায়। এখানে শব্দগুলো আলাদা করে বোঝা খুব জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বকরীর গোশত খেলে ওজু করা ইচ্ছাধীন বলা হয়েছে।
- উটের গোশত খেলে ওজু করার নির্দেশ এসেছে।
- বকরী থাকার স্থানে সালাতের অনুমতি আছে।
- উটের বাথানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে।
