৩/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩১৫-[১৬] - ঘুম ও ওজুর সম্পর্ক
যে কারণে ওজু করা ওয়াজিব হয় - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ঘুম এলে ওজু নিয়ে সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩১৫-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩১৫-[১৬]
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ إِنَّمَا الْعَيْنَانِ وِكَاءُ السَّهِ فَإِذَا نَامَتْ الْعَيْنُ اسْتَطْلَقَ الْوِكَاءُ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
মু’আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ চোখ দুইটো হল গুহ্যদ্বারের ফিতা-বন্ধন স্বরূপ। সুতরাং চোখ যখন ঘুমায় ফিতা (ঢাকনা) তখন খুলে যায়। [১]
[১] হাসান : আহমাদ ১৬৪৩৭, দারিমী ৭২২, সহীহুল জামি‘ ৪১৪৮। এর সানাদে আবূ বাকর ইবনু আবূ মারইয়াম নামক একজন দুর্বল রাবী থাকা সত্ত্বেও তার শাহিদ বর্ণনা থাকায় হাসানের স্তরে উন্নীত হয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩১৫-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم চোখের সঙ্গে গুহ্যদ্বারের বন্ধনের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চোখ দুইটি গুহ্যদ্বারের ফিতা-বন্ধনের মতো। যখন চোখ ঘুমায়, তখন সেই বন্ধন খুলে যায়। অর্থাৎ ঘুমের সময় মানুষ নিজের শরীরের অবস্থা ঠিকভাবে বুঝতে পারে না। তাই ঘুম ও ওজুর সম্পর্ক এই হাদিসে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় এসেছে। এখানে সরাসরি একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে, জেগে থাকা অবস্থায় মানুষ সচেতন থাকে, কিন্তু ঘুম এলে সেই সচেতনতা কমে যায়। ওজু ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা জানার ক্ষমতাও কমে। তাই পবিত্রতার বিষয়ে ঘুমকে হালকা করে দেখা উচিত নয়। এই হাদিসের সঙ্গে পরের বর্ণনাগুলো মিলিয়ে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুমের সময় মানুষ নিজের শরীরের অবস্থা বুঝতে পারে না।
- চোখ জেগে থাকা সচেতনতার একটি চিহ্ন হিসেবে এসেছে।
- ঘুম ও ওজুর সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
- পবিত্রতার বিষয়ে অবহেলা করা উচিত নয়।
