১৩/১৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৩০-[৭] - শোকের সীমা ও স্বামীর ইদ্দত
ইদ্দত - প্রথম অনুচ্ছেদ
মৃতের জন্য শোকের সীমা ও স্বামীর মৃত্যুতে ইদ্দত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৩৩০-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৩৩০-[৭]
وَعَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ وَزَيْنَبَ بِنْتِ جحش عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا»
উম্মু হাবীবাহ্ ও যায়নাব বিনতু জাশ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে মুমিনাহ্ আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের ওপর ঈমান আনে, তার পক্ষে কোনো মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক প্রকাশ করা বৈধ নয়। অবশ্য কোনো রমণীর স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিনের জন্য শোক প্রকাশ করবে।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৩৩৪-৩৫, মুসলিম ১৪৮৬, আবূ দাঊদ ২২৯৯, নাসায়ী ৩৫২৭, আহমাদ ২৬৭৫৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫৩৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৩০-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু হাবীবাহ্ রাঃ ও যায়নাব বিনতু জাহশ রাঃ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে মুমিনাহ্ নারী আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের ওপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোনো মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর মৃত্যু হলে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। হাদিসটি শোকের সময়সীমা খুব স্পষ্ট করে। সাধারণ আত্মীয় বা অন্য কারও মৃত্যুতে শোকের সীমা তিন দিন; কিন্তু স্বামীর মৃত্যু আলাদা বিধানের অধীনে এসেছে। এখানে ইদ্দত, শোক, ঈমান ও আখিরাতের কথা একসাথে বলা হয়েছে। অর্থাৎ শোকও আবেগের বিষয় হলেও তা শরীয়তের সীমার ভেতরে থাকবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাধারণ মৃতের জন্য শোকের সীমা তিন দিনের বেশি নয়।
- স্বামীর মৃত্যুতে নারীর শোকের সময় চার মাস দশ দিন।
- শোক পালনেও ঈমান ও আখিরাতের চেতনা থাকা দরকার।
- আবেগের ক্ষেত্রেও শরীয়তের নির্দিষ্ট সীমা আছে।
