১৩/১৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩২৯-[৬] - ইদ্দতে সুরমা ব্যবহারের নিষেধ
ইদ্দত - প্রথম অনুচ্ছেদ
স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দতে সুরমা ব্যবহারের বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৩২৯-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৩২৯-[৬]
وَعَن أُمِّ سلمةَ قَالَتْ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدِ اشْتَكَتْ عَيْنُهَا أَفَنَكْحُلُهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا» مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ: «لَا» قَالَ: «إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وعشرٌ وَقد كَانَت إِحْدَاهُنَّ فِي الجاهليَّةِ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ»
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এর নিকট জনৈক মহিলা এসে বলল যে, আমার মেয়ের স্বামী মারা গেছে। এমতাবস্থায় তার চোখে অসুখ হয়েছে, (ইদ্দতকালে) আমি কী তার চোখে সুরমা ব্যবহার করাতে পারব? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। এতে স্ত্রীলোকটি দু' বা তিনবার অনুমতি চাইল। প্রতিবারেই তিনি (ﷺ) বললেন, না। অতঃপর বললেন- দেখ! মাত্র ৪ মাস ১০ দিন, অথচ জাহিলিয়্যাত (অন্ধকার) যুগে তোমাদের এক একজন নারীকে ইদ্দতকাল এক বছর পূর্ণ হলে উটের গোবর ফেলতে হতো।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৩৩৬, মুসলিম ১৪৮৮, আবূ দাঊদ ২২৯৯, তিরমিযী ১১৯৭, নাসায়ী ৩৫৩৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩২৯-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু সালামাহ্ রাঃ বর্ণনা করেছেন, এক নারী নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে বলেন, তাঁর মেয়ের স্বামী মারা গেছে এবং মেয়ের চোখে অসুখ হয়েছে। তিনি জানতে চান, ইদ্দতের সময় তার চোখে সুরমা লাগানো যাবে কি না। নবী صلى الله عليه وسلم বারবার বলেন, না। এরপর তিনি বলেন, বিষয়টি তো মাত্র চার মাস দশ দিন। অথচ জাহিলিয়্যাতের সময় নারীরা এক বছর পর্যন্ত কঠিনভাবে অপেক্ষা করত এবং বছরের শেষে উটের গোবর ফেলার প্রথা ছিল। এই হাদিসে স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত, শোকের নিয়ম এবং সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকার দিকটি এসেছে। একই সঙ্গে নবী صلى الله عليه وسلم আগের কষ্টকর প্রথার তুলনায় ইসলামের নির্দিষ্ট সময়সীমাও স্মরণ করিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দতে সুরমা ব্যবহারে সতর্ক বিধান এসেছে।
- ইদ্দতের সময় সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা আছে।
- ইসলাম শোকের সময় নির্দিষ্ট করেছে—চার মাস দশ দিন।
- পুরোনো কষ্টকর প্রথার বদলে স্পষ্ট বিধান দেওয়া হয়েছে।
