১৩/১৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৩১-[৮] - বিধবার শোকের পোশাক ও সাজসজ্জা
ইদ্দত - প্রথম অনুচ্ছেদ
বিধবার শোককালে পোশাক, সুরমা ও সুগন্ধির বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৩৩১-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৩৩১-[৮]
وَعَن أُمِّ عطيَّةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تُحِدُّ امْرَأَةٌ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَلَا تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا إِلَّا ثَوْبَ عَصْبٍ وَلَا تكتحِلُ وَلَا تَمَسُّ طِيبًا إِلَّا إِذَا طَهُرَتْ نُبْذَةً مِنْ قُسْطٍ أَوْ أَظْفَارٍ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَزَادَ أَبُو دَاوُدَ: «وَلَا تختضب»
উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ্ (নুসায়বাহ্) (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোনো রমণী যেন মৃতের জন্য তিনদিনের অধিক শোক পালন না করে, অবশ্য স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিন ব্যতীত। এছাড়া সে যেন রং করা সুতার কাপড় ছাড়া কোনো রঙিন কাপড় না পরে, সুরমা না লাগায় ও সুগন্ধি ব্যবহার না করে। অবশ্য ঋতুস্রাব হতে পাক হওয়ার সময় (শরীরের দুর্গন্ধ দূরীকরণে) 'কুত্ব' ও ‘আফ্ফার’ জাতীয় কাঠের সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে। আবূ দাঊদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে, মেহেদিও না লাগায়।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৩৪২, মুসলিম ৯৩৮, আবূ দাঊদ ২৩০২, নাসায়ী ৩৫৩৪, ইবনু মাজাহ ২০৮৭, ইরওয়া ২০১৪, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৪৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৩১-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু আতিয়্যাহ্ রাঃ বর্ণনা করেছেন, নারী কোনো মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করবে না; তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক করবে। এই সময় সে রং করা সুতার কাপড় ছাড়া রঙিন কাপড় পরবে না, সুরমা লাগাবে না এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। তবে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার সময় শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য অল্প পরিমাণ কুস্ত বা আযফার জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। দাঊদের বর্ণনায় মেহেদী না লাগানোর কথাও এসেছে। হাদিসটি বিধবার শোকের ব্যবহারিক দিক শেখায়। এখানে পোশাক, চোখের সাজ, সুগন্ধি ও মেহেদী—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ আছে। তাই বিধবার ইদ্দত শুধু সময়ের হিসাব নয়; আচরণেও সংযমের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করা হয়েছে।
- ইদ্দতকালে সাজসজ্জা ও সুগন্ধি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ আছে।
- পবিত্রতার দরকারে সীমিতভাবে নির্দিষ্ট সুগন্ধি ব্যবহারের অনুমতি আছে।
- শোকের বিধানে সংযম ও শালীনতা গুরুত্বপূর্ণ।
