১৬/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫১১-[২] - কামড়ানোর ঘটনায় দাঁতের ক্ষতিপূরণ
যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই - প্রথম অনুচ্ছেদ
কামড়ানোর ঘটনায় দাঁতের ক্ষতিপূরণের বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫১১-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫১১-[২]
وَعَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ وَكَانَ لِي أَجِيرٌ فقاتلَ إِنساناً فعض أَحدهمَا الْآخَرِ فَانْتَزَعَ الْمَعْضُوضُ يَدَهُ مِنْ فِي الْعَاضِّ فَأَنْدَرَ ثَنِيَّتَهُ فَسَقَطَتْ فَانْطَلَقَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَهْدَرَ ثَنِيَّتَهُ وَقَالَ: «أَيَدَعُ يَدَهُ فِي فِيكَ تَقْضِمُهَا كَالْفَحْلِ»
ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে (তাবূক যুদ্ধে) কষ্ট-ত্যাগ স্বীকারকারী সৈন্যদলের সাথে ছিলাম। আমার সাথে এক চাকর ছিল, সে জনৈক ব্যক্তির সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ার দরুন একজন অপরজনের হাত কামড়ে ধরে। অতঃপর যার হাত কামড়ে ধরেছিল সে তার হাত কামড়ে ধরা মুখ থেকে টেনে বের করতে গিয়ে তার সম্মুখের দু'টি দাঁত ভেঙ্গে যায়। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করেন। এমতাবস্থায় তিনি (ﷺ) তাঁর দাঁতের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ ধার্য না করে বললেন, তুমি কি চাও যে, সে তার হাত তোমার মুখে রাখবে আর তুমি ষাঁড় উটের মতো কামড়াতে থাকবে।
[১] সহীহ : বুখারী ২২৬৫, মুসলিম ১৬৭৪, নাসায়ী ৪৭৬৯, আহমাদ ১৭৯৬৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫১১-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি বাস্তব বিবাদের ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি আরেকজনের হাত কামড়ে ধরে। যাকে কামড়ানো হয়েছিল, সে নিজের হাত কামড়ানো মুখ থেকে টেনে বের করে। এতে কামড়দাতার সামনের দুই দাঁত ভেঙে যায়। পরে সে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে অভিযোগ করে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তার দাঁতের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ ধার্য করেননি। তিনি প্রশ্নের ভঙ্গিতে বোঝালেন—সে কি তার হাত তোমার মুখে রেখে দেবে, আর তুমি ষাঁড় উটের মতো কামড়াতে থাকবে? এই হাদিসে আত্মরক্ষা, অন্যায় কামড়ের পরিণতি এবং ক্ষতিপূরণের সীমা সুন্দরভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেউ অন্যায়ভাবে কামড়ালে ভুক্তভোগী নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
- কামড়দাতার দাঁত ভাঙলেও এই ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়নি।
- অন্যকে কষ্ট দিয়ে পরে নিজের ক্ষতির দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
- আত্মরক্ষার ঘটনায় দায় নির্ধারণে ঘটনার শুরুটা বিবেচ্য।
