১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬৫-[১১] - মা'ইযের পালিয়ে যাওয়া ও সতর্কতা
দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মা'ইযের ঘটনা: তাওবার দরজা ও হাদ্দের সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৬৫-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৬৫-[১১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ مَاعِزٌ الْأَسْلَمِيُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنَّه قدْ زَنى فأعرضَ عَنهُ ثمَّ جَاءَ مِنْ شِقِّهِ الْآخَرِ فَقَالَ: إِنَّهُ قَدْ زنى فَأَعْرض عَنهُ ثمَّ جَاءَ من شقَّه الْآخَرِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ زَنى فَأَمَرَ بِهِ فِي الرَّابِعَةِ فَأُخْرِجَ إِلَى الْحَرَّةِ فَرُجِمَ بِالْحِجَارَةِ فَلَمَّا وَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ فَرَّ يَشْتَدُّ حَتَّى مَرَّ بِرَجُلٍ مَعَهُ لَحْيُ جَمَلٍ فَضَرَبَهُ بِهِ وَضَرَبَهُ النَّاسُ حَتَّى مَاتَ. فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنه فرحين وَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ وَمَسَّ الْمَوْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلَّا تَرَكْتُمُوهُ».رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَفِي رِوَايَةٍ: «هَلَّا تَرَكْتُمُوهُ لَعَلَّه أَن يَتُوب الله عَلَيْهِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মা'ইয আল আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, তিনি যিনা করেছেন। এটা শুনে তিনি (ﷺ) অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন তিনি সেদিকে যেয়ে বললেন, তিনি যিনা করেছেন। তিনি (ﷺ) এবারও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন তিনি পুনরায় সেদিকে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করেছি। পরিশেষে চতুর্থবার (স্বীকারোক্তিতে) তিনি (ﷺ) তাকে 'রজমের' নির্দেশ দিলেন।অতঃপর তাকে “হাররাহ্” নামক এলাকায় নিয়ে তাকে রজম করা হলো। কিন্তু যখন তার শরীরে পাথর নিক্ষেপ করছিল তখন (অসহ্য যন্ত্রণায়) তিনি দৌড়িয়ে পালিয়ে গেলেন এবং এমন এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন যার হাতে উটের চোয়ালের হাড্ডি ছিল। তিনি তা দিয়ে তাকে আঘাত করল এবং অন্য লোকের আঘাতে সে মৃত্যুবরণ করল।অতঃপর লোকেরা ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বলল যে, তিনি পাথরের আঘাতে মৃত্যু ভয়ে পালাচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না? অন্য এক বর্ণনায় আছে, তোমরা কেন তাকে ছেড়ে ছিলে না? হতে পারে সে তাওবাহ্ করত আর আল্লাহ তা'আলা তার তাওবাহ্ কবুল করতেন।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৪১৯, তিরমিযী ১৪২৮, ইবনু মাজাহ ২৫৫৪, ইরওয়া ২৩৬০, সহীহ আল জামি‘ ৭০৪২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬৫-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মা'ইয আল-আসলামী (রা.)-এর স্বীকারোক্তির আরেকটি দিক এসেছে। তিনি বারবার এসে নিজের অপরাধের কথা বলেন, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) কয়েকবার তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। চতুর্থবার স্বীকার করার পর রজমের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পাথরের আঘাতে কষ্ট পেয়ে তিনি দৌড়ে পালাতে থাকেন। পরে লোকেরা তাঁকে আঘাত করে হত্যা করে এবং ঘটনাটি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানায়। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না? অন্য বর্ণনায় এসেছে, হয়তো সে তাওবা করত এবং আল্লাহ তার তাওবা কবুল করতেন। এই হাদিসে যিনার শাস্তি যেমন এসেছে, তেমনি স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে আসা, তাওবার সুযোগ এবং দণ্ড কার্যকর করতে সংযমের ইশারাও দেখা যায়। তাই বর্ণনাটি কেবল শাস্তির ঘটনা নয়; তাওবার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষাও বহন করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) স্বীকারোক্তি শুনে সঙ্গে সঙ্গে তাড়াহুড়া করেননি।
- শাস্তির সময়ও ব্যক্তির অবস্থার প্রতি নজর রাখার শিক্ষা আছে।
- তাওবার সম্ভাবনাকে হালকা করে দেখা হয়নি।
- দণ্ড প্রয়োগ ব্যক্তিগত রাগ বা দলগত উত্তেজনার বিষয় নয়।
