১৭/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬১-[৭] - যিনার স্বীকারোক্তি যাচাই

দণ্ডবিধি - প্রথম অনুচ্ছেদ

রাগিব বলেনঃ হাদ্দ তথা দণ্ড হলো দু’টি বস্তুর মাঝে বাধা প্রদানকারী যা একে অপরের সাথে মিশে বাধা প্রদান করে আর যিনা এবং মদপানের দণ্ডকে বাধা দানকারী। এজন্য বলা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পুনরায় তা করতে বাধা দেয় এবং অন্যকেও ঐ অপরাধ করতে বাধা দেয়।ইবনু হুমাম বলেনঃ সমাজে দণ্ডবিধির বাস্তবায়নে অপূর্ব সৌন্দর্য এসেছে যা বর্ণনা ও লিখে শেষ করা যাবে না। এজন্য ফাকীহ ও অন্যান্যরা দণ্ডবিধি পরিচয়ে একই মন্তব্য করেছেন যে, অবশ্যম্ভাবী বিপর্যয়মূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখে। যিনাতে প্রজন্ম বিনাশের ভূমিকা রয়েছে তথা বংশনামায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে আর অন্যান্য দণ্ডগুলো জ্ঞান লোপ, সম্মানহানী এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাতের মধ্যে, এগুলো ‘আমলের সাথে জড়িত।এজন্য অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ, সম্মানের উপর আঘাত, যিনা, নেশা- এগুলা সকল যুগের ধর্মে বৈধ করা হয়নি। যদিও পানি পান করাকে বৈধ করা হয়েছে (পৃথিবীর) যে কোনো স্থানে আপনি অন্যের পানি গ্রহণ করলে আত্মসাৎ করা হবে না বা দণ্ডের আওতায় আসবে না।ইসলামী শারী‘আত এ দণ্ড প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো তিরস্কার বা ধমকানো যা দ্বারা বান্দার কষ্ট হয়। আর কোনো কোনো শায়খরা বলেছেন, শারী‘আতের দণ্ডবিধির জ্ঞান রাখার নির্যাস হলো ঐ সকল কাজে অগ্রগামী হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং দণ্ড বাস্তবায়নের পরে পুনরায় তা করতে বাধা প্রদান।

যিনার স্বীকারোক্তি ও হাদ্দ যাচাইয়ের শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৬১-[৭]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا أَتَى مَاعِزُ بن مَالك النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ: «لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ أَوْ غَمَزْتَ أَوْ نَظَرْتَ؟» قَالَ: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «أَنِكْتَهَا؟» لَا يُكَنِّي قَالَ: نَعَمْ فَعِنْدَ ذَلِكَ أَمر رجمه. رَوَاهُ البُخَارِيّ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মা'ইয ইবনু মালিক (রাঃ) যখন নবী (ﷺ) এর নিকট আসলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, তুমি কি (কোনো মহিলাকে) চুমু দিয়েছিলে, অথবা চোখ দ্বারা ইশারা দিয়েছিলে? সে বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তখন তিনি (ﷺ) বললেন, তবে কি তুমি তার সাথে সঙ্গম করেছ? কথাটি তিনি (ﷺ) কোনো ইশারা-ইঙ্গিতে বলেননি, বরং দৃঢ়কণ্ঠে বললেন। সে বলল, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি (ﷺ) তাঁকে 'রজমের' নির্দেশ করলেন।

[১] সহীহ : বুখারী ৬৮২৪, আবূ দাঊদ ৪৪২৭, আহমাদ ২১২৯।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬১-[৭]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মা'ইয ইবনু মালিক (রা.)-এর ঘটনা সংক্ষেপে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কথাকে সরাসরি হাদ্দের দিকে নিয়ে যাননি; বরং আগে জিজ্ঞেস করেছেন, বিষয়টি কি শুধু চুমু, চোখের ইশারা বা দেখা-দেখির মতো কিছু ছিল কি না। এতে বোঝা যায়, যিনার স্বীকারোক্তি যাচাই খুব সতর্কতার সাথে করা হয়েছে। যখন মা'ইয (রা.) স্পষ্টভাবে সঙ্গমের কথা স্বীকার করলেন, তখনই রজমের নির্দেশ দেওয়া হলো। এখানে মূল শিক্ষা হলো, গুরুতর দণ্ডযোগ্য বিষয়ে অস্পষ্ট কথা বা অনুমান যথেষ্ট নয়। হাদ্দ, যিনা, রজম ও স্বীকারোক্তি—এসব বিষয় বিচার-সংশ্লিষ্ট এবং খুব পরিষ্কার প্রমাণের সাথে জড়িত। হাদিসটি পাপকে হালকা করে না, আবার বিচারেও তাড়াহুড়া দেখায় না। তাই পাঠকের জন্য বার্তাটি হলো, এমন বিষয়ে কথা বলার সময় ভাষা, প্রমাণ ও দায়িত্ব—সবই সংযত হওয়া চাই।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দণ্ডযোগ্য বিষয়ে অস্পষ্ট কথা নয়, পরিষ্কার স্বীকারোক্তি ও যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
  • যিনার অভিযোগে অনুমান বা ইশারার ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) কঠিন শাস্তির আগে ঘটনাটি স্পষ্ট করে জানতে চেয়েছেন।
  • হাদ্দ ব্যক্তিগত আবেগের বিষয় নয়; বিচার ও প্রমাণের বিষয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন