১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬৪-[১০] - নিফাস অবস্থায় দণ্ড স্থগিত
দণ্ডবিধি - প্রথম অনুচ্ছেদ
রাগিব বলেনঃ হাদ্দ তথা দণ্ড হলো দু’টি বস্তুর মাঝে বাধা প্রদানকারী যা একে অপরের সাথে মিশে বাধা প্রদান করে আর যিনা এবং মদপানের দণ্ডকে বাধা দানকারী। এজন্য বলা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পুনরায় তা করতে বাধা দেয় এবং অন্যকেও ঐ অপরাধ করতে বাধা দেয়।ইবনু হুমাম বলেনঃ সমাজে দণ্ডবিধির বাস্তবায়নে অপূর্ব সৌন্দর্য এসেছে যা বর্ণনা ও লিখে শেষ করা যাবে না। এজন্য ফাকীহ ও অন্যান্যরা দণ্ডবিধি পরিচয়ে একই মন্তব্য করেছেন যে, অবশ্যম্ভাবী বিপর্যয়মূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখে। যিনাতে প্রজন্ম বিনাশের ভূমিকা রয়েছে তথা বংশনামায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে আর অন্যান্য দণ্ডগুলো জ্ঞান লোপ, সম্মানহানী এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাতের মধ্যে, এগুলো ‘আমলের সাথে জড়িত।এজন্য অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ, সম্মানের উপর আঘাত, যিনা, নেশা- এগুলা সকল যুগের ধর্মে বৈধ করা হয়নি। যদিও পানি পান করাকে বৈধ করা হয়েছে (পৃথিবীর) যে কোনো স্থানে আপনি অন্যের পানি গ্রহণ করলে আত্মসাৎ করা হবে না বা দণ্ডের আওতায় আসবে না।ইসলামী শারী‘আত এ দণ্ড প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো তিরস্কার বা ধমকানো যা দ্বারা বান্দার কষ্ট হয়। আর কোনো কোনো শায়খরা বলেছেন, শারী‘আতের দণ্ডবিধির জ্ঞান রাখার নির্যাস হলো ঐ সকল কাজে অগ্রগামী হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং দণ্ড বাস্তবায়নের পরে পুনরায় তা করতে বাধা প্রদান।
নিফাস অবস্থায় হাদ্দ স্থগিত রাখার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৬৪-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৬৪-[১০]
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَقِيمُوا عَلَى أَرِقَّائِكُمُ الْحَدَّ مَنْ أُحْصِنَ مِنْهُمْ وَمَنْ لَمْ يُحْصَنْ فَإِنَّ أَمَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَنَتْ فَأَمَرَنِي أَنْ أَجْلِدَهَا فَإِذَا هِيَ حَدِيثُ عَهْدٍ بِنِفَاسٍ فَخَشِيتُ إِنْ أَنَا جَلَدْتُهَا أَنْ أَقْتُلَهَا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَحْسَنْتَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ: قَالَ: «دَعْهَا حَتَّى يَنْقَطِعَ دَمُهَا ثُمَّ أَقِمْ عَلَيْهَا الْحَدَّ وَأَقِيمُوا الْحُدُودَ عَلَى مَا مَلَكَتْ أَيْمَانكُم»
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের গোলাম- বাঁদীদের ওপর দণ্ড কার্যকর কর, বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত হোক। একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক বাঁদী যিনা করেছিল। তখন তিনি (ﷺ) আমাকে তার ওপর দণ্ড প্রয়োগের নির্দেশ করলেন। অতঃপর যখন আমি জানতে পারলাম, দাসীটি সদ্য প্রসূতি। তখন আমার সংশয় হলো, যদি আমি তাকে চাবুক মারি তাহলে আমার দ্বারাই তার মৃত্যু হবে। সুতরাং আমি বিষয়টি নবী (ﷺ) কে জানালে তিনি বললেন, তুমি উত্তমই করেছ। আবূ দাঊদ-এর এক বর্ণনাতে আছে, তিনি (ﷺ) বললেন : তার নিফাসের রক্তস্রাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তাকে ছেড়ে দাও, তারপর তার ওপর “হাদ্দ” কার্যকর কর। আর তোমরা তোমাদের গোলাম-বাঁদীদের ওপর হাদ্দ' প্রয়োগ কর।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৭০৫, আবূ দাঊদ ৪৪৭৩, তিরমিযী ১৪৪১, আহমাদ ১৩৪১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬৪-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আলী (রা.) মানুষের সামনে গোলাম-বাঁদীদের ওপর দণ্ড কার্যকর করার কথা বলেন। কিন্তু ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর এক বাঁদী যিনা করলে তাঁকে চাবুক মারার নির্দেশ দেওয়া হয়; পরে ‘আলী (রা.) জানতে পারেন যে দাসীটি সদ্য প্রসূতি। তিনি আশঙ্কা করেন, এ অবস্থায় চাবুক মারলে তার মৃত্যু হতে পারে। বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানালে তিনি বলেন, তুমি উত্তমই করেছ। আবূ দাঊদের বর্ণনায় আছে, নিফাসের রক্তস্রাব বন্ধ হওয়া পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। হাদিসটি দেখায়, হাদ্দের বিধান থাকলেও শারীরিক অবস্থা, ক্ষতির আশঙ্কা এবং সময় বিবেচনা করা হয়েছে। বিচার শুধু কঠোরতা নয়; দায়িত্বশীলতা ও ক্ষতি এড়ানোও এর অংশ। তাই বিধান বুঝতে হলে শুধু শাস্তির নাম নয়, প্রয়োগের সময়কার অবস্থা দেখাও জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দণ্ড কার্যকর করার আগে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়েছে।
- সদ্য প্রসূতি নারীর ক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা গুরুত্ব পেয়েছে।
- ‘আলী (রা.)-এর সতর্ক সিদ্ধান্তকে নবী (صلى الله عليه وسلم) ভালো বলেছেন।
- হাদ্দ প্রয়োগে তাড়াহুড়া নয়, নিরাপদ সময়ের অপেক্ষা করা হয়েছে।
