১৭/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬৩-[৯] - বাঁদীর যিনা ও অপমান না করা

দণ্ডবিধি - প্রথম অনুচ্ছেদ

রাগিব বলেনঃ হাদ্দ তথা দণ্ড হলো দু’টি বস্তুর মাঝে বাধা প্রদানকারী যা একে অপরের সাথে মিশে বাধা প্রদান করে আর যিনা এবং মদপানের দণ্ডকে বাধা দানকারী। এজন্য বলা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পুনরায় তা করতে বাধা দেয় এবং অন্যকেও ঐ অপরাধ করতে বাধা দেয়।ইবনু হুমাম বলেনঃ সমাজে দণ্ডবিধির বাস্তবায়নে অপূর্ব সৌন্দর্য এসেছে যা বর্ণনা ও লিখে শেষ করা যাবে না। এজন্য ফাকীহ ও অন্যান্যরা দণ্ডবিধি পরিচয়ে একই মন্তব্য করেছেন যে, অবশ্যম্ভাবী বিপর্যয়মূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখে। যিনাতে প্রজন্ম বিনাশের ভূমিকা রয়েছে তথা বংশনামায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে আর অন্যান্য দণ্ডগুলো জ্ঞান লোপ, সম্মানহানী এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাতের মধ্যে, এগুলো ‘আমলের সাথে জড়িত।এজন্য অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ, সম্মানের উপর আঘাত, যিনা, নেশা- এগুলা সকল যুগের ধর্মে বৈধ করা হয়নি। যদিও পানি পান করাকে বৈধ করা হয়েছে (পৃথিবীর) যে কোনো স্থানে আপনি অন্যের পানি গ্রহণ করলে আত্মসাৎ করা হবে না বা দণ্ডের আওতায় আসবে না।ইসলামী শারী‘আত এ দণ্ড প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো তিরস্কার বা ধমকানো যা দ্বারা বান্দার কষ্ট হয়। আর কোনো কোনো শায়খরা বলেছেন, শারী‘আতের দণ্ডবিধির জ্ঞান রাখার নির্যাস হলো ঐ সকল কাজে অগ্রগামী হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং দণ্ড বাস্তবায়নের পরে পুনরায় তা করতে বাধা প্রদান।

বাঁদীর যিনা: শাস্তি আছে, অপমান নয়

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৬৩-[৯]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا زَنَتْ أَمَةُ أَحَدِكُمْ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا فَلْيَجْلِدْهَا الحدَّ وَلَا يُثَرِّبْ عَلَيْهَا ثمَّ إِنْ زنَتْ فلْيجلدْها الحدَّ وَلَا يُثَرِّبْ ثُمَّ إِنْ زَنَتِ الثَّالِثَةَ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا فَلْيَبِعْهَا ولوْ بحبْلٍ منْ شعرٍ»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি (ﷺ) বলেছেন : যদি তোমাদের কারও বাঁদী যিনা করে আর তা প্রকাশ হয়ে পড়ে, তখন তাকে চাবুক মারো। কিন্তু তাকে হেয়-প্রতিপন্ন করো না। যদি পুনরায় যিনা করে তাহলে এবারও তার ওপর দণ্ডিত কর, তবুও তাকে হেয়-প্রতিপন্ন করা যাবে না। কিন্তু এরপরও যদি সে তৃতীয়বার যিনা করে আর তা উন্মোচিত তখন চুলের একটি রশির বিনিময় হলেও তাকে বিক্রি করে দাও।

[১] সহীহ : বুখারী ২৩৩৪, মুসলিম ১৭০৩, আবূ দাঊদ ৪৪৭০, আহমাদ ১০৪০৫, সহীহ আল জামি‘ ৫৮৭।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬৩-[৯]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন একটি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যেখানে দণ্ডের পাশাপাশি মানুষের মর্যাদার বিষয়ও এসেছে। কোনো ব্যক্তির বাঁদী যিনা করলে এবং তা পরিষ্কারভাবে জানা গেলে তাকে নির্ধারিত দণ্ড দিতে বলা হয়েছে; কিন্তু তাকে হেয়-প্রতিপন্ন করতে নিষেধ করা হয়েছে। একই ঘটনা আবার ঘটলেও দণ্ডের কথা এসেছে, তবু অপমানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তৃতীয়বারও যদি বিষয়টি প্রকাশ পায়, তখন তাকে বিক্রি করে দিতে বলা হয়েছে, মূল্য খুব কম হলেও। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, অপরাধের বিচার আলাদা বিষয় আর মানুষকে লজ্জা দিয়ে ভেঙে দেওয়া আলাদা বিষয়। ইসলামের দণ্ডবিধি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই ভারসাম্য—শাস্তি, সংযম ও অপমান থেকে বিরত থাকা—খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, ভুল সংশোধনের পাশাপাশি অপমান বন্ধ রাখাও ইসলামী আচরণের অংশ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অপরাধ প্রমাণিত হলেও কাউকে হেয় করা বৈধ আচরণ নয়।
  • দণ্ড প্রয়োগের সাথে ভাষা ও আচরণে সংযম রাখা দরকার।
  • বারবার একই অপরাধ হলে সম্পর্ক বা দায়িত্বের ধরন বদলানোর ইঙ্গিত আছে।
  • শাস্তি মানে ব্যক্তিগত অপমান নয়; বিধান মানা ও সীমা রক্ষা।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন