১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭৮-[২৪] - যিনা স্বীকার ও মিথ্যা অপবাদ
দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
যিনা স্বীকারোক্তি ও মিথ্যা অপবাদের হাদ্দ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৭৮-[২৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৭৮-[২৪]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي بَكْرِ بْنِ لَيْثٍ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَقَرَّ أَنَّهُ زَنَى بِامْرَأَةٍ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَجَلَدَهُ مِائَةً وَكَانَ بِكْرًا ثُمَّ سَأَلَهُ الْبَيِّنَةَ عَلَى الْمَرْأَةِ فَقَالَتْ: كَذَبَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَجُلِدَ حَدَّ الْفِرْيَةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বাক্র ইবনু লায়স গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে চারবার স্বীকারোক্তি দিল যে, সে এক নারীর সাথে যিনা করেছে। লোকটি ছিল অবিবাহিত, তাই তিনি (ﷺ) তাকে একশত চাবুক মারলেন এবং নারীটির বিরুদ্ধে তার নিকট প্রমাণ চাইলেন। নারীটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আল্লাহর কসম সে মিথ্যা বলেছে। এবার তিনি (ﷺ) লোকটির ওপর হাদ্দে কফ জারি করলেন (মিথ্যা তুহমতের হাদ্দ জারি করলেন)।
[১] মুনকার : আবূ দাঊদ ৪৪৬৭, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৮১১০। কারণ এর সনদে কাসিম বিন ফাইয়্যায-কে ইবনু মা‘ঈন দুর্বল বলেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭৮-[২৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বনী বাক্র ইবনু লায়স গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে চারবার স্বীকার করে যে, সে এক নারীর সাথে যিনা করেছে। লোকটি অবিবাহিত ছিল, তাই তাকে একশত চাবুক মারা হয়। এরপর নারীটির বিরুদ্ধে তার কাছে প্রমাণ চাওয়া হয়। নারীটি আল্লাহর কসম করে বলে, সে মিথ্যা বলেছে। তখন লোকটির ওপর মিথ্যা তুহমতের হাদ্দ বা হাদ্দে কযফ জারি করা হয়। এই হাদিসে দুইটি শিক্ষা একসাথে এসেছে: নিজের অপরাধ স্বীকার করলে তার ফল আছে, আবার অন্য কারও নামে অভিযোগ তুললে প্রমাণও দিতে হবে। যিনার অভিযোগ খুব গুরুতর, তাই প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপবাদ দেওয়া শাস্তিযোগ্য। তাই নিজের মুখের কথা, স্বীকারোক্তি ও অভিযোগ—সবকিছুর দায় আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের স্বীকারোক্তি নিজের বিরুদ্ধে কার্যকর হয়েছে।
- অন্য নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগে প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।
- প্রমাণ ছাড়া যিনার অপবাদ দিলে কযফের হাদ্দ এসেছে।
- যিনা ও অপবাদ—দুই ক্ষেত্রেই কথার দায় বড়।
