১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭৯-[২৫] - আয়িশা (রা.)-এর নির্দোষতা
দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আয়িশা (রা.)-এর নির্দোষতা ও অপবাদের হাদ্দ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৭৯-[২৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৭৯-[২৫]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَمَّا نَزَلَ عُذْرِي قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ ذَلِكَ فَلَمَّا نَزَلَ مِنَ الْمِنْبَرِ أَمَرَ بِالرَّجُلَيْنِ وَالْمَرْأَةِ فَضُرِبُوا حَدَّهُمْ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করে যখন কোরআনের আয়াত নাযিল হলো তখন নবী (ﷺ) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর মিম্বার হতে নেমে দু'জন পুরুষ ও একজন মহিলাকে দণ্ড দেয়ার হুকুম করলেন। তখন লোকেরা তাদের ওপর (মিথ্যা অপবাদের) ‘হাদ্দ' জারি করলেন।
[১] হাসান : তিরমিযী ৩১৮১, আবূ দাঊদ ৪৪৭৪, ইবনু মাজাহ ২৫৬৭, আহমাদ ২৪০৬৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭৯-[২৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশা (রা.) বলেন, যখন তাঁর নির্দোষতা ঘোষণা করে কুরআনের আয়াত নাযিল হলো, তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) মিম্বারে দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করলেন। এরপর তিনি মিম্বার থেকে নেমে দুইজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে দণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দিলেন, আর তাঁদের ওপর মিথ্যা অপবাদের হাদ্দ কার্যকর করা হলো। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, কোনো পবিত্র মানুষের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া খুব গুরুতর অপরাধ। শুধু কথার মাধ্যমে সম্মান নষ্ট করা ইসলামে ছোট বিষয় নয়। এখানে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াতের পর বিচারিক পদক্ষেপ এসেছে। হাদিসটি অপবাদ, হাদ্দে কযফ, সম্মান রক্ষা এবং প্রমাণ ছাড়া কথা ছড়ানোর ভয়াবহতা বোঝায়। তাই মুসলিম সমাজে কারও সম্মান নিয়ে কথা বলার আগে প্রমাণের ভয়াবহ দায়িত্ব মনে রাখতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রমাণ ছাড়া অপবাদ দেওয়া গুরুতর অপরাধ।
- সম্মান নষ্টকারী কথারও বিচারিক ফল আছে।
- আয়িশা (রা.)-এর নির্দোষতা ঘোষণার পর অপবাদকারীদের দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- গুজব ছড়ানো থেকে জিহ্বাকে বাঁচানোর শিক্ষা আছে।
