১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৮০-[২৬] - দাসীর ওপর জোর ও ন্যায়বিচার
দণ্ডবিধি - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
জোরপূর্বক যিনায় ভুক্তভোগী দাসীর শাস্তি নেই
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৮০-[২৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৮০-[২৬]
عَنْ نَافِعٍ: أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عَبْدًا مِنْ رَقِيقِ الْإِمَارَةِ وَقَعَ على وليدةٍ من الخُمسِ فاستَكرهَها حَتَّى افتضَّها فَجَلَدَهُ عُمَرُ وَلَمْ يَجْلِدْهَا مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ استكرهها. رَوَاهُ البُخَارِيّ
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
সফিয়্যাহ্ বিনতু আবূ ’উবায়দ (রহঃ) তার নিকট বর্ণনা করেন। একদিন সরকারি এক গোলাম সরকারি কোষাগারের (গনীমাতের) এক বাঁদীর সাথে জোরপূর্বক যিনা করে, এমনকি তার সতীত্বও হরণ করে নেয়। এমতাবস্থায় ’উমর (রাঃ) গোলামটিকে (পঞ্চাশটি) চাবুক মারলেন এবং বাঁদীকে শাস্তি দিলেন না। কেননা তার সাথে জোরপূর্বক যিনা করা হয়েছে। (বুখারী)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৯৪৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৫৮৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৮০-[২৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সফিয়্যাহ্ বিনতু আবূ ‘উবায়দ (রহ.) জানান, সরকারি এক গোলাম গনীমতের এক বাঁদীর সাথে জোরপূর্বক যিনা করে এবং তার সতীত্ব হরণ করে। তখন ‘উমার (রা.) গোলামটিকে পঞ্চাশটি চাবুক মারেন, কিন্তু বাঁদীকে শাস্তি দেননি; কারণ তার সাথে জোরপূর্বক যিনা করা হয়েছিল। এই হাদিসের শিক্ষা ৩৫৭১ ও ৩৫৭২ নম্বর বর্ণনার সাথে মিল রাখে: ভুক্তভোগীকে অপরাধী বানানো হয়নি। জবরদস্তির দায় জোরকারী ব্যক্তির ওপর। এখানে বিশেষভাবে দাসী বা দুর্বল অবস্থানের নারীর সম্মান ও অধিকার রক্ষার দিকটি দেখা যায়। বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়; কার ওপর দায় বর্তায়, আর কে জুলুমের শিকার—তা আলাদা করে বোঝাও জরুরি। তাই দুর্বল ব্যক্তির ওপর জুলুম হলে তাকে দোষী নয়, সুরক্ষার যোগ্য হিসেবে দেখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জোরপূর্বক যিনার শিকার বাঁদীকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।
- অপরাধীর দায় তার নিজের ওপর রাখা হয়েছে।
- দুর্বল অবস্থানের মানুষের অধিকারও বিচারিকভাবে রক্ষা করা হয়েছে।
- জবরদস্তি ও সম্মতির পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
