১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭২-[১৮] - সালাতে যাওয়ার পথে জুলুম
দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে যাওয়ার পথে জুলুম: ভুক্তভোগীর সম্মান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৭২-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৭২-[১৮]
وَعَنْهُ: أَنَّ امْرَأَةً خَرَجَتْ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُرِيدُ الصَّلَاةَ فَتَلَقَّاهَا رَجُلٌ فَتَجَلَّلَهَا فَقَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا فَصَاحَتْ وَانْطَلَقَ وَمَرَّتْ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ فَقَالَتْ: إِنَّ ذَلِكَ الرَّجُلَ فَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا فَأَخَذُوا الرَّجُلَ فَأَتَوْا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهَا: «اذْهَبِي فَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكِ» وَقَالَ لِلرَّجُلِ الَّذِي وَقَعَ عَلَيْهَا: «ارْجُمُوهُ» وَقَالَ: «لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا أَهْلُ الْمَدِينَةِ لَقُبِلَ مِنْهُمْ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ
ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর যুগে জনৈকা মহিলা সালাতের উদ্দেশে বের হলো। এমন সময় এক ব্যক্তি তাকে ধরে নিয়ে জোরপূর্বক যিনা করলে মহিলাটির চিৎকারে পুরুষটি পালিয়ে যায়। তখন মুহাজিরদের একটি দল সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তখন মহিলাটি বলল, ঐ লোকটি আমার সাথে এরূপ এরূপ করেছে। তারা তখন ঐ লোকটিকে গ্রেফতার করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত করল। তিনি (ﷺ) ঐ মহিলাটিকে বললেন, চলে যাও আল্লাহ তা'আলা তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর যে লোকটি মহিলাটির সাথে যিনা করেছিল। যিনাকারীর ব্যাপারে হুকুম করলেন, একে পাথর নিক্ষেপে হত্যা কর। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, লোকটি এমনভাবে তাওবাহ্ করেছে যদি মাদীনার সকল লোক এরূপ তাওবাহ্ করত, তাহলে তাদের সকলের পক্ষ থেকে তা কবুল করা হতো।
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৪৩৭৯, তিরমিযী ১৪৫৪, আহমাদ ২৭২৪০, সহীহাহ্ ৯০০, সহীহ আত্ তারগীব ২০২৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭২-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি কঠিন ঘটনা এসেছে। এক নারী সালাতের উদ্দেশে বের হলে এক ব্যক্তি তাকে ধরে জোরপূর্বক যিনা করে। নারীটি চিৎকার করলে লোকটি পালিয়ে যায়। পরে কিছু মুহাজির ঘটনাস্থল দিয়ে গেলে নারীটি ঘটনা জানায় এবং লোকটিকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আনা হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) নারীকে বলেন, চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন। আর যে ব্যক্তি তার ওপর জোর করেছে, তার ব্যাপারে রজমের নির্দেশ দেন। পরে তাঁর তাওবার কথাও বলা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ভুক্তভোগীকে অপরাধী বানানো হয়নি; বরং তার কষ্টকে স্বীকার করা হয়েছে। অপরাধী পুরুষের দায় আলাদা রাখা হয়েছে। হাদিসটি জবরদস্তি, ন্যায়বিচার, ভুক্তভোগীর মর্যাদা এবং তাওবার গভীরতা—এই সব বিষয়ের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে বের হওয়া নারীকে অপরাধী বলা হয়নি; তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
- জোরকারী ব্যক্তির ওপর দণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে।
- ভুক্তভোগীর কথা শোনা ও তার মর্যাদা রাখা হয়েছে।
- অপরাধীর শাস্তির পরও তার তাওবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
