১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭১-[১৭] - জোরপূর্বক যিনায় নারীর দণ্ড নেই
দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
জোরপূর্বক যিনা: ভুক্তভোগীর ওপর দণ্ড নেই
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৭১-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৭১-[১৭]
وَعَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ: اسْتُكْرِهَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَرَأَ عَنْهَا الْحَدَّ وَأَقَامَهُ عَلَى الَّذِي أَصَابَهَا وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّهُ جَعَلَ لَهَا مَهْرًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর যুগে এক মহিলার সাথে জোরপূর্বক যিনা করা হয়েছিল, যিনার অভিযোগে জনৈকা নারীর ওপর দণ্ড ক্ষমা করে; কিন্তু পুরুষের ওপর দণ্ড প্রয়োগ করেছিলেন। তবে তিনি (ﷺ) নারীটির জন্য মাহ্র ধার্য করেছিলেন কিনা বর্ণনাকারী তা উল্লেখ করেননি।
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১৪৫৩, ইবনু মাজাহ ২৫৯৮, আহমাদ ১৮৮৭২। কারণ প্রথমতঃ ‘আব্দুল জাববার হতে হাজ্জাজ বিন আরত্বত-এর শ্রবণ প্রমাণিত না হওয়ায় সানাদটি বিচ্ছিন্ন, দ্বিতীয়তঃ হাজ্জাজ একজন মুদাল্লিস রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭১-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওয়াইল ইবনু হুজর (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এক নারীকে জোরপূর্বক যিনার শিকার করা হয়েছিল। তখন নারীর ওপর হাদ্দ তুলে নেওয়া হয়, আর যে পুরুষ তার ওপর জোর করেছে, তার ওপর দণ্ড কার্যকর করা হয়। বর্ণনাকারী উল্লেখ করেননি যে, নারীর জন্য মাহর নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না। এই হাদিসের মূল শিক্ষা খুব স্পষ্ট: জবরদস্তির শিকার নারী অপরাধী নয়। তার ওপর যিনার হাদ্দ প্রয়োগ করা হয়নি। অপরাধের দায় জোরকারী ব্যক্তির ওপরই দেওয়া হয়েছে। হাদিসটি ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করা, জবরদস্তি ও সম্মতির পার্থক্য বোঝা এবং বিচারকে সঠিক ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করার শিক্ষা দেয়। তাই ভুক্তভোগীর প্রতি সহানুভূতি এবং অপরাধীর দায় আলাদা করার শিক্ষা এখানে পরিষ্কার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জোরপূর্বক যিনার শিকার নারীকে দণ্ড দেওয়া হয়নি।
- অপরাধীর দায় ভুক্তভোগীর ওপর চাপানো হয়নি।
- জবরদস্তি ও স্বেচ্ছা অপরাধ এক নয়—এ শিক্ষা স্পষ্ট।
- বর্ণনায় মাহর নির্ধারণের কথা উল্লেখ নেই, তাই সে বিষয়ে বাড়তি দাবি করা যায় না।
