১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭০-[১৬] - সন্দেহ থাকলে হাদ্দ এড়ানো
দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সন্দেহ থাকলে হাদ্দ এড়ানোর শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৭০-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৭০-[১৬]
وَعَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «ادرؤا الْحُدُودَ عَنِ الْمُسْلِمِينَ مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنْ كَانَ لَهُ مَخْرَجٌ فَخَلُّوا سَبِيلَهُ فَإِنَّ الْإِمَامَ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعَفْوِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعُقُوبَةِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: قَدْ رُوِيَ عَنْهَا وَلم يرفع وَهُوَ أصح
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : মুসলিমদের যথাসম্ভব দণ্ডযোগ্য শাস্তি থেকে যদি সামান্যতম অব্যাহতির উপায় থাকে, তাহলে তাকে ছেড়ে দাও। কেননা শাসকের ক্ষমা করার ক্ষেত্রে ভুল করা শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে ভুল করার চেয়ে উত্তম।
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১৪২৪, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৮৫০২, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৫৯। কারণ এর সনদে ইয়াযীদ বিন যিয়াদ আদ্ দিমাশকী একজন মাতরূক রাবী। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, হাদীসটি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, নবী (ﷺ) হতে নয় (অর্থাৎ হাদীসটি মাওকূফ), আর এটাই অধিক সহীহ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭০-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, মুসলিমদের কাছ থেকে যথাসম্ভব দণ্ডযোগ্য শাস্তি দূরে রাখো। যদি কোনো অব্যাহতির পথ পাওয়া যায়, তাকে ছেড়ে দাও। কারণ শাসকের ক্ষমা করার ক্ষেত্রে ভুল করা শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করার চেয়ে উত্তম। হাদিসটির শেষে ইমাম তিরমিযী (রহ.) উল্লেখ করেছেন, এ বর্ণনা ‘আয়িশাহ্ (রা.) থেকে এসেছে এবং নবী (صلى الله عليه وسلم) পর্যন্ত মারফূ হওয়া নয়—মাওকূফ হওয়াই বেশি সহীহ। তাই বিষয়টি বলার সময় সতর্ক থাকা দরকার। মূল শিক্ষা হলো, হাদ্দের মতো গুরুতর শাস্তি সন্দেহ, অস্পষ্টতা বা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা থাকলে সহজে প্রয়োগ করা হয় না। বিচারব্যবস্থায় ভুল করে শাস্তি দেওয়া খুব ভয়ংকর, তাই অব্যাহতির পথ গুরুত্ব পেয়েছে। তাই এটি বিচারিক সতর্কতার একটি গভীর নীতি হিসেবে পড়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্দেহ বা অব্যাহতির পথ থাকলে শাস্তি এড়ানোর কথা এসেছে।
- শাস্তিতে ভুল করার চেয়ে ক্ষমায় ভুল করা কম ক্ষতিকর হিসেবে বলা হয়েছে।
- বর্ণনার মান সম্পর্কে তিরমিযী (রহ.)-এর সতর্ক মন্তব্য আছে।
- হাদ্দ প্রয়োগে তাড়াহুড়া নয়, গভীর যাচাই দরকার।
