১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬৯-[১৫] - সাধারণ ভুল ক্ষমা করার নির্দেশ
দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সাধারণ ভুল ক্ষমা, কিন্তু হাদ্দ আলাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৬৯-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৬৯-[১৫]
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أقيلوا ذَوي الهيآت عثراتهم إِلَّا الْحُدُود». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : সম্মানিত লোকেদের দণ্ডযোগ্য অপরাধ ব্যতীত সাধারণ ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দাও।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৩৭৫, আহমাদ ২৫৪৭৪, সহীহাহ্ ৬৩৮, সহীহ আল জামি‘ ১১৮৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৬৯-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) সম্মানিত বা সুনামধারী লোকদের সাধারণ ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছেন, তবে দণ্ডযোগ্য অপরাধকে এর বাইরে রেখেছেন। অর্থাৎ মানুষের ছোটখাটো ভুল নিয়ে অতিরিক্ত কঠোরতা দেখানো উচিত নয়, বিশেষ করে যার সামগ্রিক চরিত্র ভালো বলে পরিচিত। কিন্তু হাদ্দ বা নির্দিষ্ট দণ্ডযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। এতে ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা আছে: মানুষকে শুধরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে, আবার আল্লাহর নির্ধারিত সীমাকেও হালকা করা যাবে না। এই বর্ণনা ক্ষমাশীলতা, সামাজিক সৌজন্য ও বিচারিক সীমারেখা বোঝাতে সাহায্য করে। এটি দোষ খোঁজা নয়, বরং ন্যায় ও দয়া—দুটিকে ঠিক জায়গায় রাখার শিক্ষা দেয়। তাই ক্ষমা ও বিচার—দুটির জায়গা আলাদা রেখে চলাই এই বর্ণনার সুন্দর শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাধারণ ভুলে ক্ষমাশীল হওয়া ভালো আচরণের অংশ।
- ভালো পরিচয়ের মানুষও ভুল করতে পারে; তাকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়।
- দণ্ডযোগ্য অপরাধকে সাধারণ ভুলের মতো ধরা হয়নি।
- দয়া ও ন্যায়ের সীমা আলাদা করে বোঝানো হয়েছে।
