১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭৩-[১৯] - বিবাহিত যিনাকারীর শাস্তি
দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বিবাহিত যিনাকারীর হাদ্দ: প্রমাণ জানার পর সিদ্ধান্ত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৭৩-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৭৩-[১৯]
وَعَنْ جَابِرٍ: أَنَّ رَجُلًا زَنَى بِامْرَأَةٍ فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجُلِدَ الْحَدَّ ثُمَّ أُخْبِرَ أَنَّهُ مُحْصَنٌ فَأَمَرَ بِهِ فرجم. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক ব্যক্তি এক নারীর সাথে যিনা করেছিল। তখন নবী (ﷺ) তাকে চাবুক মারার হুকুম করলেন। কিন্তু চাবুক মারার পর জানা গেল সে বিবাহিত, তখন তিনি (ﷺ) তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তা কার্যকর করা হলো।
[১] সানাদ য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৪৪৩৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৭৩-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এক নারীর সাথে যিনা করেছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) তার ওপর চাবুক মারার নির্দেশ দেন। পরে জানানো হয় যে লোকটি বিবাহিত। তখন তিনি (صلى الله عليه وسلم) তাকে রজম করার নির্দেশ দেন এবং তা কার্যকর করা হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, শাস্তির ধরন নির্ধারণে ব্যক্তির অবস্থার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ছিল; পরে নতুন তথ্য জানা গেলে বিচারিক সিদ্ধান্ত বদলেছে। হাদিসটি যিনার হাদ্দ, বিবাহিত ও অবিবাহিত অবস্থার পার্থক্য, এবং তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব বোঝায়। একই সাথে এটি দেখায়, বিচারককে ঘটনা ও ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হয়। অনুমান বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে গুরুতর সিদ্ধান্ত নিরাপদ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাস্তির ধরন নির্ধারণে ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এসেছে।
- নতুন তথ্য জানা গেলে বিচারিক সিদ্ধান্ত সংশোধন করা হয়েছে।
- যিনার হাদ্দে ঘটনা ও অবস্থা যাচাই দরকার।
- গুরুতর বিষয়ে অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর স্থির থাকা ঠিক নয়।
