১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৮১-[২৭] - তাওবার আশা ও হদের সতর্কতা
দণ্ডবিধি - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মা'ইযের ঘটনা: তাওবা ও হদের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৮১-[২৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৮১-[২৭]
وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ نُعَيْمِ بْنِ هَزَّالٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ يَتِيمًا فِي حِجْرِ أَبِي فَأَصَابَ جَارِيَةً مِنَ الْحَيِّ فَقَالَ لَهُ أَبِي: ائْتِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِمَا صَنَعْتَ لَعَلَّهُ يَسْتَغْفِرُ لَكَ وَإِنَّمَا يُرِيدُ بِذَلِكَ رَجَاءَ أَنْ يَكُونَ لَهُ مَخْرَجًا فَآتَاهُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِني زنيتُ فأقِمْ عليَّ كتابَ اللَّهِ حَتَّى قَالَهَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّكَ قَدْ قُلْتَهَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَبِمَنْ؟ قَالَ: بِفُلَانَةَ.قَالَ: «هَلْ ضَاجَعْتَهَا؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «هَلْ بَاشَرْتَهَا؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «هَلْ جَامَعْتَهَا؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: فَأَمَرَ بِهِ أَنْ يُرْجَمَ فَأُخْرِجُ بِهِ إِلَى الْحَرَّةِ فَلَمَّا رُجِمَ فَوَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ فَجَزِعَ فَخَرَجَ يَشْتَدُّ فَلَقِيَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ وَقَدْ عَجَزَ أَصْحَابُهُ فَنَزَعَ لَهُ بِوَظِيفِ بَعِيرٍ فَرَمَاهُ بِهِ فَقَتَلَهُ ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: «هَلَّا تَرَكْتُمُوهُ لَعَلَّهُ أَنْ يَتُوبَ. فَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَيْهِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ইয়াযীদ ইবনু নু'আয়ম ইবনু হায্যাল (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণিতঃ
মা'ইয ইবনু মালিক (রাঃ) ইয়াতীম ছিলেন এবং সে আমার পিতার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত। অতঃপর তিনি এলাকার এক বাঁদীর সাথে যিনা করেন। তখন আমার পিতা তাকে বলেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যাও এবং তুমি যা কিছু করেছ তা তাঁকে এতদসম্পর্কে জানাও। সম্ভবত তিনি (ﷺ) তোমার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন এবং এ কথা বলার উদ্দেশ্য তার জন্য গুনাহ মাফের একটি উপায়ান্তর বের করা, তাছাড়া আর কিছু ছিল না।অতঃপর মা'ইয (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি যিনা করেছি। আমার ওপর আল্লাহ কিতাবের বিধান কার্যকর করুন। তিনি (ﷺ) তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। মা'ইয (রাঃ) পুনরায় বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমি যিনা করেছি। আমার ওপর আল্লাহর কিতাবের ফায়সালা কার্যকর করুন। এমনকি তিনি চারবার স্বীকারোক্তি দিলেন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি চারবার স্বীকারোক্তি দিয়েছ। এখন বল, তুমি কার সাথে যিনা করেছ? মা'ইয (রাঃ) বললেন, অমুক নারীর সাথে। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি কি তাকে জড়িয়ে ধরেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি কি তার সাথে যৌনাচার করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তার সাথে সঙ্গম করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) তার প্রতি 'রজমের আদেশ দিলে তাকে 'হারাহ্' নামক অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর যখন তাকে পাথর নিক্ষেপ করা শুরু হলো তখন পাথরের অসহ্য আঘাতের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে তিনি অধৈর্য হয়ে পড়লেন এবং দৌড়ে পালিয়ে গেলেন। তারপর ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) তাকে এরূপ অবস্থায় পেলেন যে, তার সঙ্গীরা পাথর মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তখন ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) উটের একটি পায়ের হাড্ডির আঘাতে তাকে মেরে ফেললেন। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) এর নিকটে এসে পুরো বিষয় বর্ণনা করলেন। তখন তিনি (ﷺ) বললেন : তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না। সম্ভবত সে তাওবাহ্ করত এবং আল্লাহ তা'আলাও তার তাওবাহ্ কবুল করে নিতেন।
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৪৪১৯, সহীহ আত্ তারগীব ২৩৩৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৮১-[২৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মা'ইয ইবনু মালিক (রাঃ)-এর একটি কঠিন ঘটনা এসেছে। তিনি নিজের অপরাধের কথা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বারবার স্বীকার করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত দেননি; বরং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং পরে প্রশ্ন করে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। এতে বোঝা যায়, হদ বা আল্লাহর দণ্ডবিধি কোনো হালকা বিষয় নয়। স্বীকারোক্তি যাচাই করা হয়েছে, বিস্তারিত জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তারপর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘটনার শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথাটি খুব গভীর—তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না, সম্ভবত সে তাওবা করত এবং আল্লাহ তার তাওবা কবুল করতেন। তাই এই হাদিসে যিনার ভয়াবহতা, হদের সতর্কতা এবং তাওবার আশা—সবই একসাথে দেখা যায়। মূল শিক্ষা হলো, গুনাহ বড় হলেও আল্লাহর কাছে ফিরে আসার দরজা বন্ধ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
- গুনাহের ভয়াবহতা বুঝে আল্লাহর কাছে তাওবা করার দরজা খোলা থাকে।
- হদ প্রয়োগের বিষয়টি আবেগ নয়, প্রমাণ ও সতর্ক যাচাইয়ের সাথে সম্পর্কিত।
- কাউকে তাওবার সুযোগ দেওয়া ইসলামের রহমতের একটি বড় দিক।
