১৭/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৮২-[২৮] - যিনা ও ঘুষের সামাজিক ক্ষতি
দণ্ডবিধি - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
যিনা ও ঘুষ ছড়িয়ে পড়ার পরিণতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৫৮২-[২৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৫৮২-[২৮]
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ قَوْمٍ يَظْهَرُ فِيهِمُ الزِّنَا إِلَّا أُخِذُوا بِالسَّنَةِ وَمَا مِنْ قَوْمٍ يَظْهَرُ فِيهِمُ الرِّشَا إِلَّا أخذُوا بِالرُّعْبِ». رَوَاهُ أَحْمد
‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে জাতির মাঝে যিনা-ব্যভিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে তারা দুর্ভিক্ষ ও অভাব-অনটনে পতিত হবে। আর যে জাতির মাঝে ঘুষের ব্যাপক প্রচলন শুরু হবে তারা ভীরুতা ও কাপুরুষতায় পতিত হবে
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ১৭৮২২, য‘ঈফাহ্ ১২৩৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫২১১, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১১৬২। কারণ এর সনদে মুহাম্মাদ বিন রাশিদ আল মুরাদী একজন মাজহূল রাবী, ইবনু লাহইয়া স্মৃতিশক্তিগত ত্রুটিজনিত কারণে দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৫৮২-[২৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সমাজের দুটি বড় পাপের পরিণতি বলেছেন—যিনা-ব্যভিচার এবং ঘুষ। হাদিসের ভাষায়, কোনো জাতির মাঝে যিনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তারা দুর্ভিক্ষ ও অভাব-অনটনে পড়বে। আবার যে জাতির মাঝে ঘুষের প্রচলন ছড়িয়ে পড়ে, তারা ভীরুতা ও আতঙ্কে আক্রান্ত হবে। এখানে শুধু ব্যক্তিগত পাপের কথা নয়, বরং সমাজে পাপ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। যিনা পরিবার, লজ্জা ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে দুর্বল করে। আর ঘুষ ন্যায়বিচারকে নষ্ট করে, মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। তাই এই হাদিস মানুষকে শুধু নিজে বাঁচতে নয়, সমাজকে পাপ ও অন্যায় থেকে রক্ষা করার দিকেও সতর্ক করে। মূল কীওয়ার্ড যিনা ও ঘুষের ক্ষতি—এখানে খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিনা-ব্যভিচার সমাজে ছড়িয়ে পড়লে তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- ঘুষ ন্যায়বিচার ও মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করে।
- সমাজের প্রকাশ্য পাপ শুধু ব্যক্তির নয়, সবার ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- নৈতিকতা ও ন্যায় বজায় রাখা সামাজিক শান্তির জন্য জরুরি।
