১৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬০৫-[১৬] - চুরির দণ্ডে শিক্ষা গ্রহণ
চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
চুরির দণ্ডে অন্যদের জন্য সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬০৫-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬০৫-[১৬]
وَعَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بسارقٍ فقُطِعَتْ يَدَهُ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَعُلِّقَتْ فِي عُنُقِهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ
ফাযালাহ্ ইবনু 'উবায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক চোরকে আনা হলে তিনি (ﷺ) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। পরে তিনি হুকুম দিলেন এবার তার হাত কেটে যেন তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হয় (যাতে অন্যেরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে)। অতএব ঐ হাত তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হলো।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৪৪১১, তিরমিযী ১৪৪৭, নাসায়ী ৪৯৮৫, ইবনু মাজাহ ২৫৮৭, আহমাদ ২৩৯৪৬, ইরওয়া ২৪৩২। কারণ এর সনদে হাজ্জাজ বিন আরত্বত একজন দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬০৫-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাদালাহ ইবনু উবাইদ (রাঃ) বলেন, একজন চোরকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আনা হয়। তার হাত কাটা হয়। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم নির্দেশ দেন, কাটা হাতটি তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হোক। অনুবাদে বলা হয়েছে, যেন অন্যরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এই বর্ণনা চুরির দণ্ডের একটি প্রকাশ্য সতর্কতামূলক দিক তুলে ধরে। চুরি শুধু লুকিয়ে করা ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; এর প্রভাব অন্যের সম্পদ, নিরাপত্তা ও সমাজের আস্থার ওপর পড়ে। তাই এই হাদিসে চোরের শাস্তি, দৃষ্টান্তমূলক সতর্কতা এবং হদ শাস্তির ভয়াবহতা একসঙ্গে দেখা যায়। তবে এই দণ্ড নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশে হয়েছে, তাই এটিকে ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োগের কোনো অনুমতি হিসেবে বুঝা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুরি থেকে সমাজকে সতর্ক করার একটি দিক হাদিসে এসেছে।
- চোরের শাস্তি শুধু ব্যক্তির জন্য নয়, অন্যদের জন্যও শিক্ষা হতে পারে।
- অন্যের সম্পদ নেওয়া ইসলামে গুরুতর অপরাধ।
- দণ্ড কার্যকর হয়েছে নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিচারিক নির্দেশে।
