১৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬০৭-[১৮] - দণ্ডবিধিতে পক্ষপাতহীন ন্যায়
চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
চুরির দণ্ডে পক্ষপাতহীন ন্যায়বিচার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬০৭-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬০৭-[১৮]
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَارِقٍ فَقَطَعَهُ فَقَالُوا: مَا كُنَّا نَرَاكَ تَبْلُغُ بِهِ هَذَا قَالَ: «لَوْ كانتْ فاطمةُ لقطعتَها». رَوَاهُ النَّسَائِيّ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এক চোরকে আনা হলে তিনি (ﷺ) তার হাত কেটে দিলেন। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বুঝতে পারিনি যে, আপনি তার হাত কেটে দেবেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন : যদি (আমার মেয়ে) ফাতিমাও হত, তবুও আমি তার হাত কেটে দিতাম।
[১] সহীহ : নাসায়ী ৪৯০০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬০৭-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, একজন চোরকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আনা হলে তিনি তার হাত কাটেন। সাহাবীগণ বললেন, আমরা বুঝিনি যে আপনি বিষয়টি এতদূর নিয়ে যাবেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, যদি ফাতিমাও হত, তবুও আমি তার হাত কেটে দিতাম। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ন্যায়বিচারে আত্মীয়তা, মর্যাদা বা ভালোবাসা বাধা হতে পারে না। চুরির দণ্ড, হদ শাস্তি এবং ন্যায়বিচার—এই তিনটি বিষয় এখানে জোরালোভাবে এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর প্রিয় কন্যার নাম উল্লেখ করে বোঝালেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডে পক্ষপাত করা ঠিক নয়। তবে এটি বিচারিক দণ্ডের বিষয়, কারও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ন্যায়বিচারে প্রিয়জনের জন্য আলাদা ছাড় দেওয়া ঠিক নয়।
- চুরি প্রমাণিত হলে দণ্ডের ক্ষেত্রে পক্ষপাতের সুযোগ নেই।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর কথায় আইনের সামনে সমতার শিক্ষা এসেছে।
- হদ শাস্তি বিচারিক কর্তৃত্বের অধীন বিষয়।
