১৭/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১৪-[১] - মদ্যপানের দণ্ডের বর্ণনা
মদ পানের দণ্ডবিধি - প্রথম অনুচ্ছেদ
ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃالخمر(খামর) আভিধানিক অর্থ হলো আচ্ছন্ন করা। মহিলাদের মাথা, চুল ইত্যাদি যে কাপড় দ্বারা আবৃত বা আচ্ছাদিত করা হয় তাকেالخمر’‘খামর’’ বলা হয় আর এজন্য খামর নাম রাখা হয়েছে যে মদ পানের মাধ্যমে জ্ঞান ও বুদ্ধি আচ্ছাদিত হয়। কারো মতে মদ হলো যে জিনিসই মাদকতা সৃষ্টি করে। মদ তৈরি করা হয় আঙ্গুর ও খেজুর থেকে। ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেন :عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ: صَنَعَ لَنَا عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ طَعَامًا فَدَعَانَا وَسَقَانَا مِنَ الْخَمْرِ فَأَخَذَتِ الْخَمْرُ مِنَّا، وَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَقَدَّمُونِىْ فَقَرَأْتُ: قُلْ يٰاَيُّهَا الْكَافِرُوْنَ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ وَنَحْنُ نَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ. قَالَ: فَأَنْزَلَ اللّٰهُ تَعَالٰى يٰاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارٰى حَتّٰى تَعْلَمُوْا مَا تَقُولُوْنَ‘আলী ইবনু আবূ তালিব থেকে বর্ণিত। ‘আবদুর রহমান বিন ‘আওফ খানার আয়োজন করেন এবং আমাদেরকে দা‘ওয়াত দিলে আমাদেরকে মদও পান করালেন। মদের ক্রিয়া আমাদেরকে আক্রমণ করল। এমতাবস্থায় সালাতের সময়ও হলো তারা আমাকে ইমামতির দায়িত্ব দিলো আমি সূরা কাফিরূন পড়তে লাগলাম। আমি তাতে পড়লাম, অর্থাৎ- ’‘তুমি বল, হে কাফির সম্প্রদায়! আমি ‘ইবাদাত করি না, তোমরা যার ‘ইবাদাত কর, আর আমরা তার ‘ইবাদাত করছি তোমরা যার ‘ইবাদাত করছো।’’ তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন, অর্থাৎ ’‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন সালাতের ধারে-কাছেও যেও না। যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৩)ইবনু হুমাম বলেনঃ যদিও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি মুরতাদ হয় তার স্ত্রী তালাক হয় না, কেননা কুফরীর বিষয়টি বিশ্বাস ও অবজ্ঞাকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট। এজন্য কুফরীর হুকুম লাগানো হয়েছে রসিকতাকারীকে বিশ্বাসের সাথে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, ‘আলী (রাঃ)-এর সূরা আল কাফিরূন-এর আয়াতটির তিলাওয়াত ছিল ভুলবশত বা অনাকাঙ্ক্ষিত, ইচ্ছাকৃত না।এ অধ্যায়ের সংশ্লিষ্ট মাসআলার মধ্যে অন্যতম একটি মাস্আলাহ্ হলো যদি কেউ মদ পান করে এবং গন্ধ চলে যাওয়ার পর স্বীকার করে তাহলে তার ওপর হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে না- ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও ইউসুফ-এর মতে। তবে মুহাম্মাদের মতে হাদ্দ প্রয়োগ হবে। অনুরূপ গন্ধ চলে যাওয়ার পর কেউ সাক্ষী দেয় তাহলেও হাদ্দ প্রয়োগ হবে না। আর মাতাল অবস্থায় হাদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না জ্ঞান ফিরে আসার পর হাদ্দ প্রয়োগ করতে হবে। এ ব্যাপারে চার ইমামই ঐকমত্য। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
মদ্যপানের দণ্ড: খেজুর ডাল, জুতা ও চল্লিশ চাবুক
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬১৪-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬১৪-[১]
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَرَبَ فِي الْخَمْرِ بِالْجَرِيدِ والنِّعالِ وجلَدَ أَبُو بكرٍ رَضِي الله عَنهُ أربعينَ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মদ পানের জন্য খেজুর গাছের ডাল ও জুতা দ্বারা প্রহার করেছেন। আর আবূ বকর (রাঃ) চল্লিশ চাবুক মেরেছেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৬৭৭৩, মুসলিম ১৭০৬, আবূ দাঊদ ৪৪৭৯, আহমাদ ১২১৩৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১৪-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী صلى الله عليه وسلم মদ পানের জন্য খেজুর গাছের ডাল এবং জুতা দ্বারা প্রহার করেছেন। আর আবূ বকর (রাঃ) চল্লিশ চাবুক মেরেছেন। হাদিসের মূল বিষয় হলো মদ্যপান ইসলামে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং এর জন্য দণ্ডের বর্ণনা এসেছে। এখানে দুই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়: নবী صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে খেজুর ডাল ও জুতার ব্যবহার, আর আবূ বকর (রাঃ)-এর সময়ে চল্লিশ চাবুক। হাদিসটি মদ্যপানের দণ্ড, সাহাবীদের আমল এবং অপরাধের প্রকাশ্য শাস্তির বিষয়ে তথ্য দেয়। তবে এখানে দণ্ডের বিস্তারিত শর্ত বা প্রমাণ পদ্ধতি বলা হয়নি, তাই ব্যাখ্যাও হাদিসের ভাষার মধ্যেই রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদ্যপান হাদিসে দণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে খেজুর ডাল ও জুতা দিয়ে প্রহার করার কথা বর্ণিত।
- আবূ বকর (রাঃ) চল্লিশ চাবুক মেরেছেন—এ তথ্য হাদিসে আছে।
- দণ্ডের বিষয়ে হাদিসের ভাষা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।
