১৭/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১৫-[২] - মদ্যপায়ীকে চল্লিশবার প্রহার
মদ পানের দণ্ডবিধি - প্রথম অনুচ্ছেদ
ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃالخمر(খামর) আভিধানিক অর্থ হলো আচ্ছন্ন করা। মহিলাদের মাথা, চুল ইত্যাদি যে কাপড় দ্বারা আবৃত বা আচ্ছাদিত করা হয় তাকেالخمر’‘খামর’’ বলা হয় আর এজন্য খামর নাম রাখা হয়েছে যে মদ পানের মাধ্যমে জ্ঞান ও বুদ্ধি আচ্ছাদিত হয়। কারো মতে মদ হলো যে জিনিসই মাদকতা সৃষ্টি করে। মদ তৈরি করা হয় আঙ্গুর ও খেজুর থেকে। ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেন :عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ: صَنَعَ لَنَا عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ طَعَامًا فَدَعَانَا وَسَقَانَا مِنَ الْخَمْرِ فَأَخَذَتِ الْخَمْرُ مِنَّا، وَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَقَدَّمُونِىْ فَقَرَأْتُ: قُلْ يٰاَيُّهَا الْكَافِرُوْنَ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ وَنَحْنُ نَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ. قَالَ: فَأَنْزَلَ اللّٰهُ تَعَالٰى يٰاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارٰى حَتّٰى تَعْلَمُوْا مَا تَقُولُوْنَ‘আলী ইবনু আবূ তালিব থেকে বর্ণিত। ‘আবদুর রহমান বিন ‘আওফ খানার আয়োজন করেন এবং আমাদেরকে দা‘ওয়াত দিলে আমাদেরকে মদও পান করালেন। মদের ক্রিয়া আমাদেরকে আক্রমণ করল। এমতাবস্থায় সালাতের সময়ও হলো তারা আমাকে ইমামতির দায়িত্ব দিলো আমি সূরা কাফিরূন পড়তে লাগলাম। আমি তাতে পড়লাম, অর্থাৎ- ’‘তুমি বল, হে কাফির সম্প্রদায়! আমি ‘ইবাদাত করি না, তোমরা যার ‘ইবাদাত কর, আর আমরা তার ‘ইবাদাত করছি তোমরা যার ‘ইবাদাত করছো।’’ তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন, অর্থাৎ ’‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন সালাতের ধারে-কাছেও যেও না। যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৩)ইবনু হুমাম বলেনঃ যদিও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি মুরতাদ হয় তার স্ত্রী তালাক হয় না, কেননা কুফরীর বিষয়টি বিশ্বাস ও অবজ্ঞাকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট। এজন্য কুফরীর হুকুম লাগানো হয়েছে রসিকতাকারীকে বিশ্বাসের সাথে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, ‘আলী (রাঃ)-এর সূরা আল কাফিরূন-এর আয়াতটির তিলাওয়াত ছিল ভুলবশত বা অনাকাঙ্ক্ষিত, ইচ্ছাকৃত না।এ অধ্যায়ের সংশ্লিষ্ট মাসআলার মধ্যে অন্যতম একটি মাস্আলাহ্ হলো যদি কেউ মদ পান করে এবং গন্ধ চলে যাওয়ার পর স্বীকার করে তাহলে তার ওপর হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে না- ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও ইউসুফ-এর মতে। তবে মুহাম্মাদের মতে হাদ্দ প্রয়োগ হবে। অনুরূপ গন্ধ চলে যাওয়ার পর কেউ সাক্ষী দেয় তাহলেও হাদ্দ প্রয়োগ হবে না। আর মাতাল অবস্থায় হাদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না জ্ঞান ফিরে আসার পর হাদ্দ প্রয়োগ করতে হবে। এ ব্যাপারে চার ইমামই ঐকমত্য। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
মদ্যপায়ীকে চল্লিশবার প্রহারের বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬১৫-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬১৫-[২]
وَفِي رِوَايَة عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَضْرِبُ فِي الْخَمْرِ بِالنِّعَالِ وَالْجَرِيدِ أَرْبَعِينَ
অপর এক বর্ণনায়, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী (ﷺ) মদ পানকারীকে জুতা ও খেজুরের ডাল দ্বারা চল্লিশবার প্রহার করতেন।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৭০৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬১৫-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আনাস (রাঃ) থেকে এসেছে, নবী صلى الله عليه وسلم মদ পানকারীকে জুতা এবং খেজুরের ডাল দ্বারা চল্লিশবার প্রহার করতেন। পূর্বের বর্ণনার সঙ্গে এটি কাছাকাছি, তবে এখানে চল্লিশবার প্রহারের সংখ্যা স্পষ্টভাবে এসেছে। হাদিসটি মদ্যপানের দণ্ড বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে মদ পানকারী, জুতা, খেজুর ডাল এবং চল্লিশবার প্রহারের কথা একসঙ্গে বলা হয়েছে। মদ্যপান মানুষের বোধ, আচরণ ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে—এই সাধারণ ধারণা থাকলেও, এই হাদিসে মূলত দণ্ডের বর্ণনাই এসেছে। তাই ব্যাখ্যার কেন্দ্র হওয়া উচিত: মদ্যপানকে হালকা বিষয় না ভাবা এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে দণ্ডের পদ্ধতি জানা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদ্যপানকে হাদিসে দণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে জুতা ও খেজুর ডাল দিয়ে প্রহারের বর্ণনা এসেছে।
- চল্লিশবার প্রহারের সংখ্যা এই বর্ণনায় স্পষ্ট।
- মদ পানের বিষয়কে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
