১৭/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬২৭-[৩] - মা'ইয (রাঃ)-এর স্বীকারোক্তি ও গীবতের ভয়
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বদদোয়া না করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মা'ইয (রাঃ)-এর ঘটনা: গীবত কত ভয়ংকর
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬২৭-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬২৭-[৩]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ الْأَسْلَمِيُّ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَنَّهُ أَصَابَ امْرَأَةً حَرَامًا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ كُلَّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ فَأَقْبَلَ فِي الْخَامِسَةِ فَقَالَ: «أَنِكْتَهَا؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «حَتَّى غَابَ ذَلِكَ مِنْكَ فِي ذَلِكَ مِنْهَا» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «كَمَا يَغِيبُ الْمِرْوَدُ فِي الْمُكْحُلَةِ وَالرِّشَاءُ فِي الْبِئْرِ؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «هَلْ تَدْرِي مَا الزِّنَا؟» قَالَ: نَعَمْ أَتَيْتُ مِنْهَا حَرَامًا مَا يَأْتِي الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِهِ حَلَالًا قَالَ: «فَمَا تُرِيدُ بِهَذَا الْقَوْلِ؟» قَالَ: أُرِيدُ أَنْ تُطَهِّرَنِي فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ فَسَمِعَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: انْظُرْ إِلَى هَذَا الَّذِي سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَلَمْ تَدَعْهُ نَفْسُهُ حَتَّى رُجِمَ رَجْمَ الْكَلْبِ فَسَكَتَ عَنْهُمَا ثُمَّ سَارَ سَاعَةً حَتَّى مَرَّ بِجِيفَةِ حِمَارٍ شَائِلٍ برجلِهِ فَقَالَ: «أينَ فلانٌ وفلانٌ؟» فَقَالَا: نَحْنُ ذَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ: «انْزِلَا فَكُلَا مِنْ جِيفَةِ هَذَا الْحِمَارِ» فَقَالَا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَنْ يَأْكُلُ مِنْ هَذَا؟ قَالَ: «فَمَا نِلْتُمَا مِنْ عَرْضِ أَخِيكُمَا آنِفًا أَشَدُّ مِنْ أَكْلٍ مِنْهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُ الْآنَ لَفِي أنهارِ الجنَّةِ ينغمسُ فِيهَا».رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মা'ইয আল আসলামী (রাঃ) নবী (ﷺ)- এর নিকট স্বীকারোক্তি দিল যে, সে জনৈকা নারীর সাথে অবৈধ কাজ করেছে। সে কথাটি চারবার স্বীকার করল, কিন্তু তিনি (ﷺ) তার দিক হতে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তথাপিও সে প্রত্যেকবারই একই কথার পুনরাবৃত্তি করল। অতঃপর তিনি (ﷺ) পঞ্চমবারে তার দিকে ফিরে বললেন : তুমি কি ঐ মহিলার সাথে সহবাস করেছ? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন : আচ্ছা! তোমার পুরুষাঙ্গ তার লজ্জাস্থানের মধ্যে প্রবেশ করে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল? সে বলল : হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন : তবে কি যেমনটি সুরমা শলাকা সুরমাদানির মধ্যে এবং রশি কূপের ভিতরে ঢুকে অদৃশ্য হয়ে যায়। সে বলল : জ্বী, হ্যাঁ।অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন : তুমি কি জানো যিনা কাকে বলে? সে বলল : হ্যাঁ, জানি। আমি তার সাথে অবৈধভাবে এমন কাজ করেছি, যা কোনো মানুষ তার স্ত্রীর সাথে বৈধভাবে সঙ্গম করে। অতঃপর তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এসব কথার দ্বারা কি বলতে চাচ্ছ? সে বলল : আমি চাই আপনি আমাকে পাক-পবিত্র করে দেন। সুতরাং নবী (ﷺ) তাকে হত্যা করার নির্দেশ করলেন। ফলে তাকে হত্যা করা হলো।অতঃপর তিনি (ﷺ) তার দু'জন সাহাবীকে বলতে শুনলেন, তাদের মধ্যে একে অপরকে বলছে- এ লোকটির প্রতি লক্ষ্য করো। আল্লাহ তা'আলা যার দোষ-ত্রুটি গোপন করেছিলেন, কিন্তু তার নাট্স তাকে ছাড়ল না। ফলে তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো যেভাবে কুকুরকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। তাদের উভয়ের কথা শুনে তিনি (ﷺ) নীরব থাকলেন।তারপর কিছুক্ষণ পথ চলাকালে হঠাৎ এমন একটি মৃত গাধার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন যার পা ফুলে উপরের দিকে উঠে রয়েছে। এবার তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন : অমুক, অমুক! (ঐ দু' ব্যক্তি) কোথায়? তারা বলল : হে আল্লাহর রাসূল! এই তো আমরা। তখন তিনি (ﷺ) বললেন : তোমর দু'জন নামো এবং এ মৃত গাধাটির গোস্ত খাও। তারা দু'জন বলল : হে আল্লাহর নবী! এ মৃত গাধা গোত কে খেতে পারবে? অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন : তোমরা কিছুক্ষণ পূর্বেই তোমাদের ভাইয়ের যে ইয্যত-আব্রু নষ্ট করেছ, তা এই মৃত গাধার গোস্ত খাওয়ার চেয়েও মারাত্মক ছিল। সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার জীবন। নিঃসন্দেহে সে (মা'ইয (রাঃ) এখন জান্নাতের নহরসমূহে ডুব দিয়ে (ঘুরে) বেড়াচ্ছে)
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৪৪২৮, ইরওয়া ২৩৫৪। কারণ এর নাসাদে আবুয্ যুবায়র একজন অপরিচিত রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬২৭-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে মা'ইয আল-আসলামী (রাঃ)-এর স্বীকারোক্তির ঘটনা এসেছে। তিনি নিজের অপরাধ চারবার বলেন, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) বারবার মুখ ফিরিয়ে নেন। পরে তিনি স্পষ্টভাবে জিজ্ঞেস করেন, যেন বিষয়টি পরিষ্কার হয়। মা'ইয (রাঃ) বলেন, তিনি নিজেকে পবিত্র করতে চান। এরপর তার ওপর দণ্ড কার্যকর হয়। কিন্তু পরে দুই ব্যক্তি তার সম্পর্কে কঠিন কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) তা নীরবে শুনে পরে শিক্ষা দেন। মৃত গাধার গোশত খেতে বলার মাধ্যমে তিনি বোঝান, ভাইয়ের ইজ্জত নষ্ট করা কত ঘৃণিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মা'ইয (রাঃ) জান্নাতের নহরসমূহে রয়েছে। এই হাদিসে তাওবা, দণ্ডের পর মর্যাদা, এবং গীবতের ভয় একসঙ্গে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপরাধ স্বীকারের আগে বিষয়টি স্পষ্টভাবে যাচাই করা হয়েছে।
- দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ইজ্জত নষ্ট করা গীবতের মতো গুরুতর কাজ।
- কেউ ভুল করে তাওবা করলে তাকে তুচ্ছ করা ঠিক নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) মা'ইয (রাঃ)-এর ব্যাপারে ভালো পরিণতির কথা বলেছেন।
