১৭/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬২৮-[৪] - দণ্ড কার্যকর হলে গুনাহের কাফফারা
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বদদোয়া না করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দণ্ড কখন কাফফারা হয়—হাদিসের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬২৮-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬২৮-[৪]
وَعَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَصَابَ ذَنْبًا أُقِيمَ عَلَيْهِ حَدُّ ذَلِكَ الذَّنْبِ فَهُوَ كفارتُه» رَوَاهُ فِي شرح السّنة
খুযায়মাহ বিন সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ করে এবং তার ওপর ঐ অপরাধের দণ্ড কার্যকর হয়, তখন উক্ত দণ্ডই তার জন্য কাফ্ফারাহ্ হয়ে যায়।
[১] হাসান : শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৫৯৪, আহমাদ ২১৮৭৬, সহীহাহ্ ২৩১৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬২৮-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর কথা বলেছেন। কেউ কোনো অপরাধ করলে এবং সেই অপরাধের নির্ধারিত দণ্ড তার ওপর কার্যকর হলে, সেই দণ্ডই তার জন্য কাফফারা হয়ে যায়। এখানে মূল বিষয় হলো—দুনিয়ার দণ্ড শুধু শাস্তি নয়, বরং গুনাহ মোচনের কারণও হতে পারে। তবে হাদিসটি দণ্ড কার্যকরের বিষয়কে সরাসরি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করেছে; অর্থাৎ যে অপরাধের জন্য যে দণ্ড, সেটি কার্যকর হলে কাফফারার কথা বলা হয়েছে। এই শিক্ষা মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে থাকতে, আর ভুল হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এটি আল্লাহর দয়ার দিকও দেখায়, কারণ দণ্ডের মাধ্যমে বান্দার পাপ মাফের সুযোগ থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপরাধের দণ্ড কার্যকর হলে তা কাফফারার কারণ হতে পারে।
- দণ্ডকে শুধু অপমান নয়, পাপ মোচনের দিক থেকেও দেখা হয়েছে।
- অপরাধ থেকে বাঁচা জরুরি, কারণ দণ্ডের বিষয়টি সহজ নয়।
- আল্লাহর রহমতের দরজা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্যও বন্ধ নয়।
