১৭/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৪১-[৮] - মদকে সিরকা বানানোর নিষেধ
মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
التَّعْزِيْزِহলো হাদ্দ ব্যতীত শিক্ষা দেয়া বা সতর্ক করা। ইবনু হুমাম বলেন : এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ বলেনঃوَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطْعَنْكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا’‘এবং তাদেরকে প্রহার করো যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৩৪)। আয়াতে স্ত্রীদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহারের আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা‘আলা।‘কাফী‘তে রয়েছে,لَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَরাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার পরিবার থেকে তোমার লাঠিকে উঠিয়ে রাখবে না।নবী (ﷺ) আরো বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যখনই তার পরিবার তাকে দেখে তার ঘারে লাঠি ঝুলালো।আর এ সংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীস হলোفَاضْرِبُوهُمْ عَلٰى تَرْكِهَا بِعَشْرٍ فِي الصِّبْيَانِতোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তাদের বয়স যখন দশ বছর, এমতাবস্থায় যদি তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা সুস্পষ্ট দলীল- সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদান করা বৈধ। সাহাবীরাও এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। আর তাম্রম্নতাশী সারাখসী থেকে উল্লেখ করে বলেন, সতর্কতামূলক শাস্তিতে কোনো সীমানা নেই বরং বিচারক যা ভালো মনে করেন তা করবেন। মূলতঃ উদ্দেশ্য হলো ধমকানো।মানুষও বিভিন্ন মানের তাদের মধ্যে কাউকে উপদেশের মাধ্যমে সতর্ক করবে, আবার কারো ক্ষেত্রে চর থাপ্পড়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েদ করে রাখা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
মদকে সিরকা বানানো যাবে কি? হাদিসের নির্দেশ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৪১-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৪১-[৮]
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنِ الْخَمْرِ يُتَّخَذُ خَلًّا؟ فَقَالَ: «لَا». رَوَاهُ مُسلم
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মদকে সিরকা বানিয়ে নেয়া জায়িয আছে কিনা? তিনি (ﷺ) বললেন: না।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৯৮৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৪১-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল মদকে সিরকা বানানো যাবে কি না। উত্তরে তিনি খুব সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন: “না।” তাই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, মদকে ভালো নামে বা নতুন রূপে ব্যবহারযোগ্য বানানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এখানে আলোচনার কেন্দ্র হলো মদ, সিরকা বানানো এবং হারাম বস্তু থেকে দূরে থাকা। হাদিসটি আমাদের শেখায়, কোনো জিনিসের মূল অবস্থা যদি নিষিদ্ধ হয়, তবে তা নিয়ে চালাকি বা বিকল্প পথ খোঁজা নিরাপদ নয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উত্তর ছোট হলেও অর্থ পরিষ্কার। মুসলিম জীবনে খাবার-পানীয়ের ক্ষেত্রে সন্দেহমুক্ত ও পরিষ্কার পথ বেছে নেওয়া জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদকে সিরকা বানানোর অনুমতি এই বর্ণনায় দেওয়া হয়নি।
- নিষিদ্ধ জিনিসকে বৈধ করার কৌশল খোঁজা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
- খাবার-পানীয়ের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে।
