১৮/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৭৮-[১৮] - ঐক্যবদ্ধ জামা‘আত ভাঙার সতর্কতা
প্রশাসন ও বিচারকার্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
الإمارةশব্দটির অর্থ আমিরের পদ গ্রহণ করা বা চিহ্ন ইত্যাদি।القضاءদ্বারা এখানে উদ্দেশ্য শার্‘ঈ আদালত।
ঐক্যবদ্ধ জামা‘আত ভাঙতে চাওয়ার পরিণতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৭৮-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৭৮-[১৮]
وَعَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ أَتَاكُمْ وَأَمْرُكُمْ جَمِيعٌ عَلَى رَجُلٍ وَاحِدٍ يُرِيدُ أَنْ يَشُقَّ عَصَاكُمْ أوْ يُفرِّقَ جماعتكم فَاقْتُلُوهُ». رَوَاهُ مُسلم
‘আরফাজাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি (ﷺ) বলেছেন: একজন ন্যায়সঙ্গতভাবে নির্বাচিত ব্যক্তির অধীনে তোমরা ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায় যদি কেউ তোমাদের ঐক্য ও সংহতির মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। সুতরাং তোমরা তাকে হত্যা করে ফেলো।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৮৫২, ইরওয়া ২৪৫২, সহীহ আল জামি‘ ৫৯৪৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৭৮-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, একজন ন্যায়সঙ্গতভাবে নির্বাচিত ব্যক্তির অধীনে মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায় যদি কেউ এসে ঐক্য ও সংহতির মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ এসেছে। এখানে মূল বিষয় হলো—বৈধ নেতৃত্বের অধীনে থাকা মুসলিম সমাজকে ভেঙে না দেওয়া। হাদিসে ‘ঐক্য’ ও ‘জামা‘আত’কে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভেদ সৃষ্টি মানে শুধু মতভেদ নয়; বরং নেতৃত্ব ভেঙে সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা। ইসলামী স্কলারদের মতে, এ ধরনের শাস্তিমূলক নির্দেশ ব্যক্তিগত কাজ নয়; এটি বৈধ কর্তৃপক্ষ ও বিচারব্যবস্থার বিষয়। তাই এই হাদিসের শিক্ষা হলো—সমাজে ফিতনা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি ছড়ানো থেকে বাঁচা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৈধ নেতৃত্বের অধীনে ঐক্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
- জামা‘আতের সংহতি ভাঙতে চাওয়া গুরুতর বিষয়।
- ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সমাজে ফিতনা ছড়াতে পারে।
- শাস্তির বিষয় ব্যক্তিগতভাবে নয়, বৈধ কর্তৃপক্ষের আওতায় বোঝা দরকার।
