১৮/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৭৯-[১৯] - ইমামের বায়আত ও বিরোধীর সতর্কতা
প্রশাসন ও বিচারকার্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
الإمارةশব্দটির অর্থ আমিরের পদ গ্রহণ করা বা চিহ্ন ইত্যাদি।القضاءদ্বারা এখানে উদ্দেশ্য শার্‘ঈ আদালত।
ইমামের বায়আত পূর্ণ করা ও ঐক্য রক্ষার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৭৯-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৭৯-[১৯]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «من بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ إِنِ اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فاضربوا عنق الآخر». رَوَاهُ مُسلم
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি খলীফার (ইমামের) বায়'আত করল, স্বীয় হাতে হাত দিয়ে আনুগত্যের অঙ্গীকারাবদ্ধ হলো এবং অন্তর দিয়ে সে বায়‘আতের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করল। সে যেন পরিপূর্ণরূপে তার আনুগত্য করে। তথাপিও যদি কেউ এসে (খিলাফাতের দাবি করে) প্রথম ইমামের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে তোমরা তার গর্দান ভেঙ্গে দাও।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৮৪৪, আবূ দাঊদ ৪২৪৮, নাসায়ী ৪১৯১, আহমাদ ৬৫০৩, সহীহাহ্ ১৪১, সহীহ আল জামি‘ ২৪০৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৭৯-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমামের বায়আত করল, হাতে হাত দিল এবং অন্তর দিয়ে সন্তুষ্ট হলো, সে যেন সাধ্য অনুযায়ী তার আনুগত্য করে। এখানে বায়আত শুধু বাহ্যিক হাত মেলানো নয়; অন্তরের সম্মতি ও বাস্তব আনুগত্যের বিষয়ও আছে। এরপর বলা হয়েছে, যদি অন্য কেউ এসে প্রথম ইমামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ এসেছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—বৈধ ইমামের নেতৃত্বে সমাজের ঐক্য রক্ষা করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃত্বের মাধ্যমে ফিতনা ছড়ানো থেকে বাঁচা। ইসলামী স্কলারদের মতে, এমন কঠোর নির্দেশ বিচার ও কর্তৃপক্ষের আওতায় বোঝা হয়, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা নিজ হাতে শাস্তি দেওয়া নয়। তাই হাদিসটি বায়আত, আনুগত্য ও উম্মতের ঐক্যের গুরুত্ব শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বায়আত হাতে ও অন্তরের সম্মতির সাথে যুক্ত।
- ইমামের আনুগত্য সাধ্য অনুযায়ী করতে বলা হয়েছে।
- প্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃত্ব উম্মতের ঐক্য ভাঙতে পারে।
- কঠোর শাস্তির বিষয় বৈধ কর্তৃপক্ষের আওতায় বোঝা দরকার।
