১৮/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৮২-[২২] - শাসনকার্য আমানত ও আবূ যরের শিক্ষা
প্রশাসন ও বিচারকার্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
الإمارةশব্দটির অর্থ আমিরের পদ গ্রহণ করা বা চিহ্ন ইত্যাদি।القضاءদ্বারা এখানে উদ্দেশ্য শার্‘ঈ আদালত।
শাসনকার্য আমানত: আবূ যরকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর উপদেশ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৮২-[২২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৮২-[২২]
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تَسْتَعْمِلُنِي؟ قَالَ: فَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى مَنْكِبِي ثُمَّ قَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ إِنَّكَ ضَعِيفٌ وَإِنَّهَا أَمَانَةٌ وَإِنَّهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ خِزْيٌ وَنَدَامَةٌ إِلَّا مَنْ أَخَذَهَا بِحَقِّهَا وَأَدَّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيهَا». وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ لَهُ: «يَا أَبَا ذَرٍّ إِنِّي أَرَاكَ ضَعِيفًا وَإِنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي لَا تَأَمَّرَنَّ عَلَى اثْنَيْنِ وَلَا تَوَلَّيَنَّ مَالَ يَتِيمٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে (কোনো অঞ্চলের) শাসক নিযুক্ত করবেন না? তখন তিনি (ﷺ) আমার কাঁধে করাঘাত করে বললেন: হে আবূ যার! তুমি একজন দুর্বল প্রকৃতির লোক, আর শাসনকার্য হলো একটি আমানাত। নিশ্চয় তা হবে ক্বিয়ামাতের দিন অপমান ও লাঞ্ছনা। তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে তা ন্যায়সঙ্গতভাবে মেনে নিয়েছে এবং নিষ্ঠার সাথে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে।অপর এক বর্ণনাতে আছে- তিনি (ﷺ) তাঁকে বললেন: হে আবূ যার! আমি দেখছি তুমি একজন দুর্বলমনা লোক। আর আমি তোমার জন্য সেটাই পছন্দ করি, যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করি। তুমি কক্ষনো দু'জন লোকেরও শাসক হয়ো (দায়িত্বভার নিও) না। আর ইয়াতীমের ধন-সম্পদের অভিভাবকও হয়ো না।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৮২৫, সহীহ আল জামি‘ ৭৮২৩, সহীহ আত্ তারগীব ২১৭৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৮২-[২২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ যর (রা.) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে শাসক হওয়ার কথা জিজ্ঞেস করেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর কাঁধে হাত রেখে বলেন, তিনি দুর্বল প্রকৃতির, আর শাসনকার্য একটি আমানত। এই কথায় খুব বড় শিক্ষা আছে। নেতৃত্ব শুধু বসার আসন নয়; এটি মানুষের অধিকার, সিদ্ধান্ত, সম্পদ ও নিরাপত্তার দায়। তাই হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন এটি অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হবে, তবে যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গতভাবে তা গ্রহণ করে এবং নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে, তার কথা আলাদা। আরেক বর্ণনায় আবূ যর (রা.)-কে দু’জন লোকেরও আমীর না হতে এবং ইয়াতীমের সম্পদের অভিভাবক না হতে বলা হয়েছে। তাই নেতৃত্বের আমানত, দুর্বলতা বুঝে দায়িত্ব নেওয়া এবং নিজের সীমা জানা—এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাসনকার্যকে ব্যক্তিগত মর্যাদা নয়, ভারী আমানত হিসেবে দেখা দরকার।
- নিজের সামর্থ্য না থাকলে নেতৃত্বের দায়িত্ব চাওয়া উচিত নয়।
- ইয়াতীমের সম্পদের দায়ও বড় আমানত, এতে সতর্কতা দরকার।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে দায়িত্ব নিয়ে তা পালন করাই নিরাপদ পথ।
