১৮/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৮৮-[২৮] - অত্যাচারী শাসক সবচেয়ে নিকৃষ্ট
প্রশাসন ও বিচারকার্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
الإمارةশব্দটির অর্থ আমিরের পদ গ্রহণ করা বা চিহ্ন ইত্যাদি।القضاءদ্বারা এখানে উদ্দেশ্য শার্‘ঈ আদালত।
অত্যাচারী শাসক: নেতৃত্বে জুলুমের কঠিন সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৮৮-[২৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৮৮-[২৮]
وَعَنْ عَائِذِ بْنِ عَمْرٌو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ شرَّ الرعاءِ الحُطَمَة». رَوَاهُ مُسلم
আয়িয ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি (ﷺ) বলেছেন: শাসকদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট শাসক সে, যে অত্যাচারী ও নিপীড়নকারী।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৮৩০, আহমাদ ২০৬৩৭, সহীহাহ্ ২৮৮৫, সহীহ আল জামি‘ ২০৯৪।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৮৮-[২৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, শাসকদের মধ্যে নিকৃষ্ট শাসক সে, যে অত্যাচারী ও নিপীড়নকারী। বাক্যটি ছোট, কিন্তু শিক্ষা খুব গভীর। নেতৃত্বের আসল কাজ হলো মানুষের হক রক্ষা করা, তাদের ওপর অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া নয়। যখন শাসক কঠোরতা, জুলুম ও নিপীড়নের পথে যায়, তখন সে নিজের দায়িত্বের উদ্দেশ্য নষ্ট করে। এখানে “অত্যাচারী শাসক” ও “নিপীড়নকারী নেতা” মূল বিষয়। হাদিসটি শুধু রাষ্ট্রের শাসকের জন্য নয়; যে কোনো পর্যায়ে যারা মানুষের ওপর কর্তৃত্ব রাখে, তাদের জন্য সতর্কতা। ঘর, প্রতিষ্ঠান, সমাজ বা প্রশাসন—যেখানেই ক্ষমতা থাকে, সেখানে ন্যায় ও দয়া দরকার। জুলুম নেতৃত্বকে সম্মান নয়, ক্ষতির পথে নিয়ে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেতৃত্বের উদ্দেশ্য মানুষের ওপর জুলুম করা নয়।
- কর্তৃত্ব পেলেই কঠোর ও নিপীড়নকারী হওয়া নিন্দনীয়।
- শাসকের ভালো-মন্দ তার আচরণে প্রকাশ পায়।
- মানুষের অধিকার রক্ষা নেতৃত্বের বড় দায়।
