১৮/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৯৭-[৩৭] - দশজনের আমীরও কিয়ামতে জবাবদিহি করবে
প্রশাসন ও বিচারকার্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দশজনের আমীর: ছোট নেতৃত্বেও বড় হিসাব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৯৭-[৩৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৯৭-[৩৭]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ أَمِيرِ عَشرَةٍ إِلا يُؤتى بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَغْلُولًا حَتَّى يُفَكَّ عَنْهُ الْعَدْلُ أَو يوبقه الْجور». رَوَاهُ الدَّارمِيّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি দশজন লোকেরও আমীর (শাসক) নিযুক্ত হবে, কিয়ামতের দিনে তাকে এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে যে, তার গলায় বেড়ি পড়ানো থাকবে। তার গলার বেড়ি থেকে তার ন্যায়-নীতি ও ইনসাফ তাকে মুক্ত করবে অথবা তার কৃত যুগ্ম ও নির্যাতন তাকে ধ্বংস করবে।
[১] সহীহ : আহমাদ ৯৫৭৩, দারিমী ২৫১৮, সহীহাহ্ ২৬২১, সহীহ আল জামি‘ ৫৬৯৫, সহীহ আত্ তারগীব ২১৯৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৯৭-[৩৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নেতৃত্বের দায় কত ভারী তা খুব শক্তভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি দশজন লোকেরও আমীর হয়, কিয়ামতের দিন তাকে এমন অবস্থায় আনা হবে যে তার গলায় বেড়ি থাকবে। এরপর তার ন্যায়নীতি ও ইনসাফ তাকে সেই বেড়ি থেকে মুক্ত করবে অথবা তার জুলুম ও অন্যায় তাকে ধ্বংস করবে। এখানে বোঝা যায়, নেতৃত্ব ছোট হোক বা বড়—হিসাব আছে। মাত্র দশজনের দায়িত্বও হালকা নয়। তাই “দশজনের আমীর”, “কিয়ামতের জবাবদিহি” ও “ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব” এই হাদিসের প্রধান বিষয়। যিনি পরিবার, দল, অফিস বা সমাজে কিছু মানুষের দায়িত্ব পান, তার জন্য এই হাদিস বড় সতর্কতা। ন্যায়ই নিরাপত্তার পথ, আর জুলুম ক্ষতির পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ছোট নেতৃত্বও আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়।
- ন্যায়নীতি দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুক্তির কারণ হতে পারে।
- জুলুম নেতৃত্বকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়।
- দশজনের দায়িত্বও হালকা করে দেখা উচিত নয়।
