১৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৮২-[২৫] - খিয়ানাতকারীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়
বিচারকার্য এবং সাক্ষ্যদান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
খিয়ানাতকারীর সাক্ষ্য: বিচারকার্যে সততার গুরুত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৮২-[২৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৮২-[২৫]
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَجُوزُ شَهَادَةُ خَائِنٍ وَلَا خَائِنَةٍ وَلَا زَانٍ وَلَا زَانِيَةٍ وَلَا ذِي غِمْرٍ عَلَى أَخِيهِ». وَرَدَّ شَهَادَةَ الْقَانِعِ لِأَهْلِ الْبَيَتْ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: খিয়ানাতকারী পুরুষ ও খিয়ানাতকারিণী নারীর সাক্ষ্য কবুলযোগ্য নয়। ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারিণী নারীর সাক্ষ্যও কবুলযোগ্য নয় (গ্রহণ করা হবে না)। আর শত্রুর সাক্ষ্যদান বৈধ নয়, যদিও সে তার মুসলিম ভাই হয়। আর তিনি (ﷺ) এমন ব্যক্তির সাক্ষ্যকেও অগ্রহণযোগ্য বলেছেন, যে কোনো পরিবারের গোলাম বা চাকর।
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৩৬০১, ইবনু মাজাহ ২৩৬৬, আহমাদ ৬৮৯৯, ইরওয়া ২৬৬৯, সহীহ আল জামি‘ ৭২৩৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৮২-[২৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, খিয়ানাতকারী পুরুষ ও খিয়ানাতকারিণী নারীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে ব্যভিচারী পুরুষ ও নারীর সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হবে না। আবার শত্রুর সাক্ষ্য বৈধ নয়, যদিও সে মুসলিম ভাই হয়। হাদিসে আরও এসেছে, কোনো পরিবারের গোলাম বা চাকরের সাক্ষ্যকেও অগ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। এখানে বিচারকার্যে সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে চরিত্র, আমানতদারি এবং সম্পর্কের প্রভাব বোঝানো হয়েছে। যে ব্যক্তি খিয়ানাত করে, বড় পাপের সঙ্গে যুক্ত, বা কারও প্রতি শত্রুতা রাখে, তার বক্তব্যে পক্ষপাত বা অবিশ্বাসের আশঙ্কা থাকে। তাই ইসলামী বিচারব্যবস্থায় সাক্ষ্য শুধু তথ্য দেওয়ার বিষয় নয়; সাক্ষ্যদাতার নৈতিক অবস্থাও বিবেচনার বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খিয়ানাত মানুষের কথার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।
- শত্রুতা থাকলে বিচারকার্যে সাক্ষ্য সন্দেহের কারণ হতে পারে।
- সাক্ষ্য দেওয়ার আগে নিজের চরিত্র ও অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে হবে।
- বিচারে নিরপেক্ষতা রক্ষা করা বড় দায়িত্ব।
