১৯/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৩৭-[১] - উহুদের ময়দানে জান্নাতের আশা
যুদ্ধাভিযানে হত্যার বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
উহুদের ময়দানে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯৩৭-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৩৭-[১]
عَن جَابر قَالَ: قَالَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ: أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فَأَيْنَ أَنَا؟ قَالَ: «فِي الْجنَّة» فَألْقى ثَمَرَات فِي يَده ثمَّ قَاتل حَتَّى قتل
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উহুদের দিন জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। আচ্ছা বলুন! আমি যদি এ যুদ্ধে মারা যাই, তবে আমার অবস্থান কোথায় হবে? তিনি (ﷺ) বলেন, জান্নাতে। এমতাবস্থায় তিনি নিজের হাতের খেজুরগুলো (যা খাচ্ছিলেন) ছুঁড়ে ফেলে দিলেন, অতঃপর জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শাহাদাত বরণ করলেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৪০৪৬, মুসলিম ১৮৯৯, আহমাদ ১৪৩১৪।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৩৭-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উহুদের দিনের একটি হৃদয় ছোঁয়া ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি নবী صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করলেন, যদি তিনি এ যুদ্ধে মারা যান, তবে তাঁর অবস্থান কোথায় হবে? নবী صلى الله عليه وسلم উত্তর দিলেন, জান্নাতে। তিনি তখন হাতে থাকা খেজুরগুলো ফেলে দিলেন এবং যুদ্ধের ময়দানে এগিয়ে গিয়ে শাহাদাত বরণ করলেন। হাদিসে অতিরিক্ত কোনো দীর্ঘ আলোচনা নেই; ঘটনাটিই মূল শিক্ষা। এখানে শাহাদাত, জান্নাতের আশা এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর কথার ওপর সাহাবীর দ্রুত সাড়া দেখা যায়। তবে এই শিক্ষা যুদ্ধের সেই নির্দিষ্ট অবস্থার সঙ্গে যুক্ত। সাধারণভাবে এর থেকে বোঝা যায়, ঈমানের ডাক সামনে এলে সাহাবীরা দেরি করতেন না এবং আখিরাতকে দুনিয়ার সামান্য ভোগের চেয়ে বড় মনে করতেন। তাই এই বর্ণনা থেকে সরাসরি পাওয়া শিক্ষাকেই গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবী নবী صلى الله عليه وسلم-এর কথায় দৃঢ় বিশ্বাস দেখিয়েছেন।
- জান্নাতের আশা তাঁকে দুনিয়ার সামান্য খেজুর থেকেও বিমুখ করেছে।
- ঘটনাটি উহুদের নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনা হিসেবে বুঝতে হবে।
