১৯/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৪-[১০] - যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও খুমুস
গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।
যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশ ও খুমুসের নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯৯৪-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৯৪-[১০]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا قَرْيَةٍ أَتَيْتُمُوهَا وأقمتمْ فِيهَا فَسَهْمُكُمْ فِيهَا وَأَيُّمَا قَرْيَةٍ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ خُمُسَهَا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ ثُمَّ هِيَ لَكُمْ». رَوَاهُ مُسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা যে কোনো জনবসতিতে (যুদ্ধবিগ্রহ ব্যতীত) আধিপত্য বিস্তার কর, সেখানের সম্পদে সকলের সাথে তোমাদের অংশের অধিকার রয়েছে। আর যে জনবসতির অধিবাসীগণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, তখন তোমরা যুদ্ধের মাধ্যমে তা জয়ী হও। আর সেখানের সম্পদে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এক-পঞ্চমাংশ রয়েছে এবং অবশিষ্ট তোমাদেরই জন্য।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৭৫৬, আবূ দাঊদ ৩০৩৬, আহমাদ ৮২১৬, সহীহ আল জামি‘ ২৭৩৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৪-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জনবসতি ও সম্পদের বিষয়ে দুই ধরনের অবস্থা তুলে ধরেছেন। কোনো জনবসতিতে যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হলে সেখানে অবস্থানকারীদের অংশের কথা বলা হয়েছে। আর কোনো জনবসতির অধিবাসীরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলে এবং যুদ্ধের মাধ্যমে তা জয় করা হলে সেখানকার সম্পদে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য এক-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ খুমুস, নির্ধারিত হবে; এরপর অবশিষ্ট অংশ মুসলিমদের জন্য। এখানে গনীমাতের মাল, খুমুস এবং বণ্টনের নিয়ম স্পষ্টভাবে এসেছে। এই হাদিস দেখায়, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ব্যক্তিগত দখলের বিষয় নয়। এতে অংশ, খুমুস ও সাধারণ বণ্টনের নিয়ম রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুদ্ধ ছাড়া অধিকার ও যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ের সম্পদের নিয়ম এক নয়।
- যুদ্ধলব্ধ সম্পদে খুমুস নির্ধারিত হয়েছে।
- গনীমাতের মাল ব্যক্তিগতভাবে দখল করার বিষয় নয়।
- বণ্টনে আল্লাহ ও রাসূলের নির্ধারিত নিয়ম মানতে হয়।
